আলো ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, হত্যা মামলার আসামি বিদেশ গিয়ে বসে থাকে। অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাও করতে দেওয়া হবে না।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আ স ম আবদুর রবকে কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছিলেন, সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন। অথচ আইন দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবঞ্চিত করা হচ্ছে।
এটা শুধু একটি চক্রান্ত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম জিয়াকে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে কোনো মামলায় যদি সাজা দেওয়া হয়, হাইকোর্ট সহানুভূতিশীল হয়ে সেই সাজা কমিয়ে দেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বেগম জিয়াকে হাইকোর্ট পাঁচ বছর সাজা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নানা গড়িমসি করছে। সরকারের যদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে সমস্যা নেই, আমরা সরকারকেও চিকিৎসা করাবো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, চোখ বন্ধ করে প্রতিদিন বড়লোক হচ্ছেন। কোথায়? আমি তো চোখ বন্ধ করে বড়লোক হলাম না। টাকা-পয়সা তো আমার কাছে আসে না। টাকা আসে আপনার কাছে। দেশে বৈষম্য বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একদিকে মানুষ গরিব হচ্ছে, অন্যদিকে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে।
সোয়া তিন কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। কিন্তু কত লোক নতুন করে কোটিপতি হয়েছে, সেটাও তো প্রশ্ন থেকে যায়। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ন্যাপ (ভাসানী) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি ক্ষমতায় গেলে দেশের সব অসহায় দরিদ্র মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা দেবো। এর পেছনে হয়তো সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান সরকার তো দরিদ্র মানুষের জন্য এসব করবে না, মুখে শুধুমাত্র নানা ধরনের উন্নয়নের কথা বলেন।
কোন ধরনের উন্নয়ন? যে পদ্মাসেতুর বাজেট ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে এখন গিয়ে ঠেকেছে ৩০ হাজার কোটি টাকার উপরে। মান্না বলেন, বেগম জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকার বিদেশে নিতে দেবে না। এমনকি কোনো সহযোগিতাও করতে চায় না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালের সিসিইউতে আছেন। তার চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে কি না, আমরা জানি না। অবাক লাগে, তাকে বিদেশেও নিতে দেবে না। দেশের একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না, এটা ভাবতেই তো কষ্ট লাগে।
অথচ এই বোধশক্তি সরকারের নেই। বর্তমান সরকারের বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই মন্তব্য করে মান্না বলেন, বেগম জিয়ার যদি কিছু হয়, তার জন্য এককভাবে সরকার দায়ী। এই দায় থেকে তারা যেন মুক্তি না পায়, এজন্য সবাইকে এক হতে হবে। আমি বিএনপি করি না। ভবিষ্যতে করব কি না তাও জানি না। কিন্তু মানবিক দিক থেকে সবাইকেই আমাদের এক হতে হবে।
করোনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, দেড় বছর ধরে করোনা চলছে। এই দেড় বছরে সোয়া তিন কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। আপনারা এত গালিগালাজ করেন, অথচ পাকিস্তান করোনার সময়ে মানুষের সব ধরনের দায়িত্ব নিয়েছে।
