আলো ডেস্ক:
২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফল প্রকাশ করা হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির ফল ঘোষণা করেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বমোট ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছর ফলাফলে পাসের গড় হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। এবার এসএসসিতে পাসের হার ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।
দাখিলে পাসের হার ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন। কারিগরিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৯৪৮ জন। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন।
এর মধ্যে ছাত্র সাত লাখ এক হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী সাত লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দুই হাজার ২৯১টি, প্রতিষ্ঠানসংখ্যা ১৮ হাজার ৮৪টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন এবং এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী। এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩টি। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র এক লাখ আট হাজার ৩৮৫ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা ১০ এপ্রিল থেকে ১৫ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাস করতে পারেনি ৬ লাখ ৬৬০ পরীক্ষার্থী: এ বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ চার হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। তবে উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৬ লাখ ৬৬০ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন ছাত্রী।
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। সেই হিসেবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৬ লাখ ৬৬০ পরীক্ষার্থী।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৫৪ জন। উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৬ জন পরীক্ষার্থী।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭২ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় পাস করে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থী।
উত্তীর্ণ হতে পারেননি ৯১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৭ শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৩৬ হাজার ৪৪৭ জন।
