আলো ডেস্ক: জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নারিনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী করুনা বেগম ছেলের মৃতদেহ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে বালুচাপা দিয়ে রেখেছেন, এমন খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার করিম নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় করুনা বেগম, তার স্বামী আলহাজসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছেলের লাশ লুকিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন।
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, করিমের বাবা-মার দেওয়া তথ্য অনুসারেই সেপটিক ট্যাংক থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে, মৃত্যুর বিষয়ে করুনা বেগম বলেন, তাদের মেঝো ছেলে করিম দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত।
গত মঙ্গলবার রাতে খাওয়া শেষে, করিম নিজের ঘরে শুয়ে পড়ে। পরদিন ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ছেলের লাশ নামিয়ে সেপটিক ট্যাংকে বালুচাপা দিয়ে রাখেন। সেপটিক ট্যাংকে লাশ রাখা কারণ হিসেবে তারা বলেন, দুই বছর আগে বড় ছেলের বউ চিঠি লিখে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। আবার এই আত্মহত্যার খবর মানুষ জানলে আবার বর্তমান ভিটে-বাড়িটিও থাকবে না। তাই আমরা বুকে পাথর বেঁধে তারা খবর গোপন করেছেন।
মৃত করিমের বাবা আলহাজ বলেন, ছেলের মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে গতকাল শুক্রবার ভোরে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে সব খুলে বলেন।
তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান জানান, এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা বিষয়টি নিশ্চিত হতে কাজ করছে পুলিশ।
এছাড়াও মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
