কেশরহাট পৌর প্রতিনিধি
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার টিকা কেন্দ্রগুলোতে কোভিড ভ্যাকসিন টিকা নিতে আসা মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার মোহনপুর উপজেলার কোভিডের টিকা কেন্দ্রতে আগ্রহী এবং উদগ্রীব গ্রামের মানুষেদের উপচে পড়া ভিড় এতই ছিল যে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত ছিলনা।
স্বাস্থ্য কর্মীরা বলেছেন, গত কয়েকমাসের তুলনায় এবার টিকাকেন্দ্রটিতে মানুষের ভিড় অনেক বেশি এবং চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবার যেহেতু গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মৃত্যুও বেড়েছিল, সেকারণে মানুষ টিকা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। জনগণের মাঝে করোনা টিকার ব্যাপক চাহিদা তৈরী হয়েছে। সংশয় কেটে যাওয়ায় টিকা কেন্দ্রে এখন বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকার নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল তাই চোখে পড়ার মতো।
আগে গেলে টিকা পাওয়া যাবে। ডোজ ফুরিয়ে যেতে পারে-এ আশঙ্কায় চল্লিশোর্ধ্ব লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন। এ উপজেলায় টিকা গ্রহনের জন্য ৫ অক্টোবর বেলা ১১টা পর্যন্ত সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন করেছেন এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৬’শ ১২জন। আর টিকা পেয়েছেন ৬১হাজার ১’শ ৬৭জন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ৪ অক্টোবর সোমবার একদিনে টিকা নেওয়া লোকের সংখ্যা ১ম ডোজ ৭৩৫, ২য় ডোজ ৯০ জন সর্বমোট ৮২৫ জন তার মধ্যে মেয়ে ৩২৫ জন, পুরুষ ৪১০ জন। ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার ১ম ডোজ গ্রহন করেছেন ১হাজার ৪’শ ৫ জন, দ্বিতীয় ডোজ গ্রহন করেছেন ৭০ জন। এরমধ্যে টিকা গ্রহণকারী মহিলার সংখ্যা ১ম ডোজ ৬’শ ৮০জন ২য় ডোজ ৩১জন। টিকা গ্রহণকারীরা সবাই স্বাভাবিক ও সুস্থ থাকায় অন্যরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টিকা নিতে আসা ধুরইল বাজার হোটেল ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হালিম, জাহাঙ্গীর আলম, আনারুল ইসলাম বলেন, যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। এ ছাড়া এখন টিকা না নিলে পরে যদি পাওয়া না যায়, তাই আগে টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে এসেছি।
এদিকে টিকা গ্রহণকারী মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুস সালাম ও মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি মোহা.তৌহিদুল ইসলাম বলেন,
দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য দ্রুত টিকা এনেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। মরণঘাতী করোনা থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে টিকা নিতে হবে। টিকা নেওয়ার পর কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। আগের চেয়ে নিজেকে অনেক সুরক্ষিত ও শরীরে এন্টিবডি তৈরী হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে নিয়োজিত (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, মানুষের মধ্যে এখন সমটিকা নেওয়ার ব্যাপারে সংশয় কেটে গেছে। এ কারণে লোকজন স্বেচ্ছায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে টিকা নিচ্ছেন।
এ পর্যন্ত ৬১হাজার ১’শ ৬৭জন জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। সিনোফার্ম ১ম ডোজ ৩৩৩৮৪জন, ২য় ডোজ ১২৩০৫ জন, এস্ট্রোজেনিকা ১ ডোজ ৯৭৯৯, ২য় ডোজ ৫৬৭৯। দিন দিন টিকা গ্রহণ করতে আসা লোকদের সংখ্যা বাড়ছে।
উল্লেখ্য মোহনপুর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৮৫ জন। পুরুষ ২৫৪ জন, মহিলা ১৩১ জন। মারা গেছেন ৩ জন। ২ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা।
