আলো ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আবদুল ওয়াহিদ নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর আড়াই বছর পর মরদেহের হাড় ও মাথার খুলি ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণহাতা নারুই কবরস্থান থেকে লাশটির দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়।
এ সময় সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেন এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদ স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মারা যান। ঘটনার প্রায় দুইবছর পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার স্ত্রী হোসনা বেগম আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ২২ নভেম্বর লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হবে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা কবরের সঠিক স্থান দেখাতে না পারায় লাশটি উদ্ধারে বিলম্ব হয়।
কবর শনাক্তের পর মাথার খুলি ও ৮৭টি হাড় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হচ্ছে। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী হাশেম মিয়া-আবুল খায়েরের পরিবারের সঙ্গে বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদ স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাশেম-খায়েরের পরিবারের সদস্যদের হামলায় নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বররা হত্যা ও জায়গার বিরোধ মীমাংসা করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ অবস্থায় কোনো প্রকার মামলা ও ময়নাতদন্ত ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদের লাশটি দাফন করা হয়। ঘটনার পাঁচদিন পরই শালিস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাশেম-খায়েরের পরিবারের বসতভিটা নিহতের পরিবারকে লিখে দিয়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বলা হয়। রায় মেনে নিলেও পরবর্তীতে টালবাহানা করেন অভিযুক্তরা। ফলে ঘটনার দুই বছর পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে নিহতের স্ত্রী হত্যা মামলা করেন।
নভেম্বরে আদালত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দেন। ফলে গতকাল শনিবার লাশটির হাড় ও মাথার খুলি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
