স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন হোসনি গঞ্জ এলাকায় অবস্থিত হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হাবিবের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হোস্টেল সুপারের পরিত্যক্ত বাসভবনে প্রধান শিক্ষকের পছন্দমত পিয়ন আনসার আলীকে মৌখিকভাবে বসবাস করার অনুমতি দিয়েছে যা সম্প‚র্ণ বেআইনি এবং এই ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এদিকে প্রধান শিক্ষকের পরিত্যক্ত বাসভবনে জুয়েল নামে এক পিয়নকে একইভাবে মৌখিক ভাবে অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
গত কয়েকদিন আগে প্রধান শিক্ষকের নিয়মবহির্ভ‚ত উদাসীন নিরাপত্তার কারণে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিং অবস্থিত লাইব্রেরীর কক্ষে থেকে প্রায় ১ মনের অধিক পুরনো ম‚ল্যবান বই চুরি হয়ে গেছে যা এলাকার বাসিন্দাদের মুখে মুখে।
স্কুলের ভিতরে অবস্থিত পুকুরের লীজের মেয়াদ গত বছর শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে লীজ না দিয়ে নিজেই ভোগ দখল করছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন উদাসীনতায় পরিত্যক্ত বাসভবনে কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই জন ব্যাক্তিকে থাকার অনুমতি দিলো তা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকার মানুষের বোধগম্য নয়। এবিষয়ে বসবাস করা ব্যক্তিরাও কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
একটি স‚ত্র বলছে, এই মুশতাক হাবিব পূর্বে রংপুর অঞ্চলের ডিডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে প্রমোশন না দিয়ে ডিমোশন হিসেবে হাজি মহাম্মদ মহসিন স্কুলে বদলি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, হাজী মুহাম্মদ মহসিন স্কুলের মসজিদের ইমামের বেতন ধরা হয়েছিল ৬,৫০০ টাকা প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সেটা করা হচ্ছে না। এলাকাবাসীর কাছ থেকে যে চাঁদা আদায় করবে সেটাও তার নিয়মের মধ্যে পড়ে না বলে সাফ জানিয়ে দেন এই প্রধান শিক্ষক মোঃ মুস্তাক হাবিব।
এ বিষয়ে হাজী মুহাম্মদ মহসিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক হাবিবের ব্যবহারিত ০১৩১০২৪৩৯৮৭ নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরাসরি স্কুলে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অপরাগত প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের বিদ্যালয় শাখার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড.শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে কেউ বাস করে এটা আমার জানা নেই অপরদিকে লাইব্রেরী কক্ষে থেকে বই চুরির ঘটনাটি তার জানা নেই বলে জানান এই কর্মকর্মকর্তা। অভিযোগের বিষয়গুলো যদি সত্য হয় তবে অবশ্যই এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।
