আলো ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা ভণ্ড রাজনীতিবিদের মতো আচরণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, অবৈধ আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ এখন সারাবিশ্ব থেকে আসতে শুরু করেছে। মিথ্যা মামলা এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নজরদারি, খবরদারির মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশকে এখন নিষ্ঠুর বন্দিশালায় পরিণত করে এর লৌহকপাটের চাবি শেখ হাসিনা নিজের আঁচলে বেঁধে রেখেছেন।
গণতন্ত্র, কথা বলার স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, নাগরিকদের স্বাধীন চলাচলের স্বাধীনতাসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, আজ বিএনপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বরিশালের গৌরনদীতে আওয়ামী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও কলেজ শিক্ষক আলী শরীফ, যুবদলের সদস্য সচিব মনির মাস্টার, সরীকল ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির, আবুল হোসেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রোকনুজ্জামানকে লাঠি, রড ও ধারালা অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
রিজভী বলেন, বকশিগঞ্জ উপজেলায় কর্মসূচি শেষ করার পর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, সাবেক ভিপি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান মতিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা কর্মসূচি চলাকালীন হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতা কাজল, আইন উদ্দীন, সাইফুল, যুবদল নেতা স্বপন ও শ্রমিক দল নেতা মনুসহ ১৫/২০ জন নেতা কর্মীকে আহত করে। এছাড়াও কুমিল্লার দেবিদ্দার বাগুর বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির সমাবেশ বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
অভিযোগ করে রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৬ আগস্ট যশোর জেলাধীন বেনাপোল পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বেনাপোল বাজারস্থ মিলন চেয়ারম্যান মার্কেটের ৩য় তলায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল চলাকালে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে শার্শা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মলিন, পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল আলিম, প্রচার সম্পাদক হাবিব; পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, বেনাপোল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাদিকুর রহমান আলিফ, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ সভাপতি মিজানুর রহমান ও পৌর যুবদল নেতা মো. মুসাসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করে।
এছাড়াও গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় কেশবপুর বাজারে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলা চালিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য প্রভাষক শাহাজাহান, থানা যুবদল নেতা আবুল কালাম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল ইসলাম, পৌর বিএনপি’র সদস্য প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ সভাপতি মোঃ বুলবুল বুলি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির পলাশ, যুবদলে সহ সভাপতি মো. আলম ও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. এমদাদকে গুরুতর আহত করে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।
