স্টাফ রিপোর্টার-
গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজের ঘাটতিতে দাম বৃদ্ধি পায়। এতে নির্ভর করতে হয় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমাদানির উপর। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন করতেই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন সরকার। এই পেঁয়াজ চাষে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। এই পেঁয়াজ আবহাওয়ার নানান প্রতিক‚লতার মধ্যেও দেশে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগাম এই পেঁয়াজ চাষে কৃষককে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে কৃষিবিভাগ। নভেম্বর মাস থেকেই পেঁয়াজ তোলা যায় বলে আবাদের এ নতুন ধারায় দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সাধারণত চাষিরা পেঁয়াজের চারা রোপণ করে থাকেন। তখন চাষি বাম্পার ফলন পেলেও দাম কম পেয়ে থাকেন। এজন্য খরিপ-২ এ অসময়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা উৎপাদন করে বাজার-ঘাটতি রোধকল্পে এবং চাষিদের লাভবান করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হয়ে থাকে।
পেঁয়াজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ঘাটতি মেটাতে এবং উৎপাদন বাড়াতে এখন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আর গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ চাষে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের মাঝে।
গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের নমুনা হার্ভেস্টে দেখা যায়, পেঁয়াজ এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন হেক্টর প্রতি প্রায় ১৯ মেট্রিক টন। রাজশাহী জেলায় এবার ২৬৬ হেক্টর জমিতে নতুন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ এন-৫৩ সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। এ বছর রাজশাহী জেলায় দুই হাজার কৃষক প্রায় ২৬৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ করেছেন।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রীষ্মকালীন চারা উৎপাদন প্রক্রিয়া ও কলাকৌশল কিছুটা জটিল। তবে পবা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে আদর্শ চাষিদের মাঝে পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করে ভালো ফলাফল পাচ্ছে। এছাড়াও গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজ চাষ প্রকল্পের আওতায় জেলার দুই হাজার কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ বিষয়ক কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোজদার হোসেন জানান, জেলায় বিভিন্ন চাষির মাধ্যমে ২৬৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ এন-৫৩ আবাদ করা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজশাহী জেলার কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের এক নতুন মাইল ফলক স্পর্শ করেছে। লাভ ও ফলনে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কৃষকদের প্রণোদনাসহ করণীয় নির্ধারণ করে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সেই লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ প্রকল্পের আওতায় জেলায় দুই হাজার কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ বিষয়ক কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনূকল হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম। নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি খেত থেকে এ পেঁয়াজ ওঠানো যায়।
