স্টাফ রিপোর্টার-
সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে অতিরিক্ত আকারে দেখা দিয়েছে গরুর এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ। এলএসডি গরুর জন্য একটা ভয়ংকর ভাইরাস বাহিত চর্মরোগ যা খামারের ক্ষতির অন্যতম। একটা খামারকে অর্থনৈতিকভাবে ধসিয়ে দেয়ার জন্য এফএমডি বা খুরা রোগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর রোগ হিসেবে ধরা হয় এই এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিভিন্ন উপজেলা ও নগরীতে সাম্প্রতিককালে বেড়েছে এই রোগের প্রাদুর্ভাব। দুর্গাপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ২০০ গরু এলএসডি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তানোরে সারাবছরই প্রতিদিন দু-একটা গরুর চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা।
বাগমারা উপজেলার দামনাশ, গোবিন্দপাড়া, পারদামনাশ, ভবানিগঞ্জ; পবা উপজেলার কেশরহাট, মোহনপুরেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে- নিয়মিত টিকা কার্যক্রম বছর জুড়েই চালু রয়েছে। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তবে, প্রতিরোধের কিছু উপায় রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত এক প্রকার পক্স ভাইরাস বা এলএসডি ভাইরাসের সংক্রমণে গবাদিপশুতে এই রোগ দেখা দেয় এবং এক গরু থেকে আরেক গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানত বর্ষার শেষে, শরতের শুরুতে অথবা বসন্তের শুরুতে যে সময়ে মশা মাছি অধিক বংশবিস্তার সেই সময়ে প্রাণঘাতী এই রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
দূর্গাপুর উপজেলার বেশ কিছু খামারির সাথে কথা বলে জানা গেছে দিন বিশেক আগে থেকে শুরু হয়েছে এই রোগের প্রদুর্ভাব। বর্ষার শুরুতে ও বন্যার পরবর্তী সময়ে বেশি দেখা যায়। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মোঃ আখতার হোসেন বলেন, ল্যাম্পিস্কিন বা এলএসডি রোগের খবর পেয়েছি। জেলার বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত বাড়ছে। আমরা দূর্গাপুরে টিকা পাঠিয়েছি। গরুর গায়ে মশা-মাছি যেন বসতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
