NASA's Lucy spacecraft, atop a United Launch Alliance Atlas 5 rocket for a mission to study the Trojan asteroids in the outer solar system, launches from Pad-41 at Cape Canaveral Space Force Station, in Cape Canaveral, Florida, October 16, 2021. REUTERS/Thom Baur
এফএনএস বিদেশ: জুপিটার বা বৃহস্পতিগ্রহের কাছে যেসব গ্রহাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখতে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা। কীভাবে সৌরজগৎ তৈরি হয়েছে, এই অভিযান সেই রহস্য উম্মোচনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে, সৌরজগতের ‘জীবাশ্ম’ খোঁজার অভিযান। গত শনিবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ‘লুসি’ নামের এই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিগ্রহের কক্ষপথে গ্যাসের যে বিশাল আস্তরণ আছে, সেখানে গ্রহাণুর যে ঝাঁক বেধে ঘুরতে থাকে, সেই গ্রহাণুগুলো পর্যবেক্ষণ করবে মহাকাশ প্রোব লুসি। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহগুলোর গঠন হওয়ার সময় এসব বস্তু অবশিষ্টাংশ হিসাবে রয়ে গেছে। ফলে ট্রোজান নামে পরিচিত এসব গ্রহাণুর ভেতরে সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। আগামী ১২ বছর ধরে এই মিশনের পেছনে ৯৮ কোটি ১০ লাখ ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করেছে নাসা। এর আগেও গ্রহাণু পর্যবেক্ষণে মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা। এই সময় ধরে লুসি সাতটি ট্রোজান (গ্রহাণু) পর্যবেক্ষণ করবে। আফ্রিকা থেকে পাওয়া মানবদেহের একটি সুপরিচিত ফসিলের নাম ‘লুসি’- যার মাধ্যমে আমরা পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পেরেছি। ওই নাম থেকেই নাসার এই মিশন অনুপ্রেরণা নিয়েছে-এবং নামটিও। পার্থক্য হল এই মহাকাশযানটি ইতিহাস খুঁজবে পৃথিবী থেকে লাখ লাখ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রহে এবং বৃহস্পতিগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের চারদিকে ঘুরবে। কলোরাডোর সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পক্ষে লুসি’র প্রধান পরীক্ষক হ্যাল লেভিশন ব্যাখ্যা করে বলছেন, ”ট্রোজান গ্রহাণুগুলো বৃহস্পতিগ্রহের কক্ষপথে ৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরতে থাকে। তারা বৃহস্পতি আর সূর্যের মহাকর্ষীয় প্রভাবে আটকে আছে। সৌরজগতের শুরুতে যদি সেখানে কোন বস্তু রাখা হয়, তাহলে সেটা চিরদিন সেভাবেই থাকবে। সুতরাং এটা বলা যায়, এগুলো আসলে কোন গ্রহ থেকে গঠিত জীবাশ্ম।”লুসি তার সরঞ্জাম ব্যবহার করে একেকটা শহর আকৃতির এসব বস্তু পরীক্ষানিরীক্ষা করবে। এগুলোর আকার, গঠন, ভূপৃষ্ঠের উপাদান, তাপমাত্রা এবং কী দিয়ে তৈরি- এসব বিষয় পরীক্ষা করবে। এর পাশাপাশি বৃহস্পতি গ্রহের আশপাশে অন্য যেসব গ্রহাণু আসবে, সেগুলোও পরীক্ষা করে দেখবে লুসি। এই মহাকাশ অভিযানে লুসি ছয়শো কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে, যা একসময় অসম্ভব বলে ভাবা হতো। সূত্র: বিবিসি
