জীবন আলী সবুজ, রাজশাহীঃ
রাজশাহী দূর্গাপুরের বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে চাকরীচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। ঐই মাস্টাররোল নৈশ প্রহরীর নিয়োগের ১০ বছর পর প্রধান শিক্ষক মাস্টার রুল নৈশ প্রহরী আলমগীর হোসেনকে মৌখিকভাবে চাকরীচ্যুত করায়, চাকুরী ফিরে পেতে নৈশপ্রহরী বাদী হয়ে রাজশাহীর দূর্গাপুর সহকারী জজ আদালতে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ৭১/২০১৯ অঃ প্রঃ, মামলাটি বর্তমানে জবাব দাখিল ও একতরফা জন্য ২ হাজার ২১ সালের নভেম্বর মাসের ২ তারিখে দিন ধার্য আছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী হুরমত আলী অবসরে গেলে পদটি শূন্য হয়। শূন্যপদ পূরণের জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষক সুলতানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ২ হাজার ১০ সালের জানুয়ারী মাসের ১ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনটি বৈধ আবেদন জমা হয়। প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই অন্তে সব আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সাক্ষাতকারে বোর্ড গঠন করা হয়।
গত ২ হাজার ১০ সালের মে মাসের ১৩ তারিখ সাক্ষাতকার বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষক সুলতানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রবেশ পত্র প্রদান করেন। প্রবেশপত্র উল্লেখিত তারিখে অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত হয়। সরকারী বিধি মোতাবেক সকল শর্ত পূরণ করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আবেদনকৃত সকল প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগ বোর্ডের বর্ণিত তালিকা অনুযায়ী ২ নং প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হন। নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম স্থান অধিকারকারী মাজেদুল ইসলামকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন এবং তাকে নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য ম্যানেজিং কমিটি সুপারিশ প্রদান করেন।
গত ২ হাজার ১০ সালের মে মাসের ১৭ তারিখ ম্যানেজিং কমিটির ৭ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়োগ বোর্ডের প্রথম স্থান অধিকারী মাজেদুল ইসলামকে নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয় এবং একই বছরের জুন মাসের ১ তারিখে এর মধ্যে যোগদান করিতে বলা হয়। কিন্তু মাজেদুল ইসলাম চাকুরিতে যোগদান করবে না বলে মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানালে, একই বছরের মে মাসের ২৫ তারিখের অধিবেশন নং ৯ এর ২ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়োগ বোর্ডের দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাবেক প্রধান শিক্ষক সুলতানুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নৈশ প্রহরী পদে ৩৩/১০ নং স্মারক আলমগীর হোসেনকে নিয়োগ পত্র প্রদান করেন। নৈশ প্রহরী হিসেবে যোগদানের পর বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীর সাথে হাজিরা বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি।
কিন্তু ২ হাজার ১৩ সালে আলাউদ্দিন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পরে ২ হাজার ১৪ সালে বখতিয়ারপুর গ্রামের কিছু ছদ্দবেশী কুচক্রী মহলের কথামতো, বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল মর্মে আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনায়ন করা হয়। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যথা সময়ে সঠিক জবাব দাখিল করে আমার দায়িত্ব পালন করতে থাকি।
গত ২ হাজার ১৯ সালের মে মাসের ১৮ তারিখে স্বারক নাম্বার বিহীন একটি পত্র ও ২ হাজার ১৯ সালের জুলাই মাসের ২ তারিখে আরেকটি পত্রের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আনীত ১-১২ নং অভিযোগের আলোকে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত শোকজ পত্র প্রদান করেন। ২ হাজার ১৪ সালে যে শোকজ চিঠি দিয়েছিল সেই কোথা গুলি আবার নতুনভাবে পুনরাবৃত্তি করেন।
এরপর হঠাৎ করে গত ২ হাজার ১৯ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখ প্রধান শিক্ষক আমাকে মৌখিকভাবে জানান আপনার আর বিদ্যালয়ে আসার প্রয়োজন নাই। কেন আসার প্রয়োজন নাই আমি জানতে চাইলে। প্রধান শিক্ষক কথা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আমি প্রধান শিক্ষককের কাছে লিখিত অব্যাহতি পত্র চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন। বিদ্যালয়ে গেটের চাবি প্রধান শিক্ষককে দিতে চাইলে তিনি গ্রহণ না করে বিদ্যালয়ের গেটে নতুন তালা এনে ঝুলিয়ে দেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে নিষেধ করে আমাকে অলিখিতভাবে অনুপস্থিত দেখায়। তবুও আমি ঠিকমতো স্কুলে হাজিরা দিয়ে অদ্যবধি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছি।
অপরদিকে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোঃ হাকিম সরকার, প্রধান শিক্ষকের দুষ্কর্মের সহযোগিতা না করায় তাকে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে নির্মমভাবে মানসিক নির্যাতন এবং অত্যাচার করতে থাকেন। এসমস্ত নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২ হাজার ১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ, ৯ বছর চাকুরির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও হাকিম সরকার চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বিষয়গুলো জানতে চেয়ে বখতিয়াররপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি সভাপতির নির্দেশেই নৈশপ্রহরীকে শোকজের চিঠি করেছিলাম। সে সময় আমার বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং এবং ঘরে তালা লাগানোর কারণে তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন আমার নামে বা আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কোন মামলা হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই বলে এড়িয়ে যান। আর হাকিম সরকার স্বেচ্ছা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন বলে জানান।
এব্যাপারে দূর্গাপুর উপজেলা সাবেক নির্বাহী অফিসার লিটন সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ২ হাজার ১৯ সালে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল । আমি সমস্যাটি সমাধান করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম ইতিমধ্যে আমার বদলি হওয়ার পরে বিষয়গুলো আমার আর জানা নেই। তবে আমি বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে আমার জানামতে নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনের শোকজের কোন কাগজ পত্রে আমি সাক্ষর করি নাই।
