আলো ডেস্ক: দেশে আগের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অন্ধত্ব ও চোখের ছানিজনিত সমস্যা ১৮ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ৯০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চক্ষুসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে দেওয়া এ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে অন্ধত্ব ও ছানিজনিত সমস্যাসহ চোখের বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল আই কেয়ারের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবায় অনেক উন্নতি হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানে সফলতা বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসার অপ্রতুলতাসহ বিভিন্ন কারণে আগে দেশে অসংখ্য মানুষ অন্ধ হতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৯০টি আইভিশন সেন্টারের মাধ্যমে চক্ষুসেবার ফলে অন্ধত্ব ও ছানিতজনিত সমস্যা আগের তুলনায় বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। জাহিদ মালেক আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে সারাদেশে আইভিশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে চক্ষুসেবা সহজলভ্য করা হবে। এজন্য প্রয়োজনে বাজেটও বাড়ানো হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসকসহ প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকসহ প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে। আমরা অবকাঠামো অনেক তৈরি করেছি, যন্ত্রপাতি অনেক ক্রয় করেছি। কিন্তু জনবল আমরা সেভাবে সৃষ্টি করিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সেদিকে (জনবল) নজর দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীও নজর দিয়েছেন। ২০২০ সালে নতুন একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করেছি, সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় কত লোক লাগতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও ন্যাশনাল আই কেয়ারের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের) সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক প্রমুখ।
