জীবন আলী সবুজ
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার হাট কানপড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজের বিরুদ্ধে একই পদে দুইজন প্রভাষক (কম্পিউটার শিক্ষা) নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তথ্য মতে জানা যায়, ২ হাজার ২ সালের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকায় একটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জন প্রভাষক (কম্পিউটার শিক্ষা) নিয়োগ দেওয়া হইবে। সেই মোতাবেক ৮ জন কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে দরখাস্তের আবেদন করেন। বিধি মোতাবেক সকলে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
জিয়াউর রহমানকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হিসাবে ২ হাজার ৩ সালের মার্চ মাসের ২৯ তারিখে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। সেই মোতাবেক জিয়াউর রহমান সর্বোচ্চ মার্ক ৩০ পেয়ে উক্ত তারিখে তৎকালীন অধ্যক্ষের নিকট চাকুরিতে যোগদান করেন এবং অধ্যক্ষ মহোদয় যোগদান পত্র গ্রহণ করেন। এসময় আহসান হাবীব ২৯ নম্বর পেয়ে অনির্বাচিত হন। কিন্তু তৎকালীন সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে চাকুরীর সুবাদে তৎকালীন পুঠিয়া-দূর্গাপুর রাজশাহী-৫ আসনের এমপি এডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও হাট কানপড়া জোবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আঃ করিম মোল্লা মিলে আহসান হাবিবকে ফুলের মালা গলায় দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করান এবং একই পদে একই তারিখে আহসান হাবিবকে নিয়োগ প্রদান করেন।
শুধু তাই নয় আহসান হাবীব বিএনপি সরকারের আমলে সক্রিয়ভাবে বিএনপি’র সকল কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান বিএনপিতে যোগদান না করার কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরেও বার বার চাকুরী বহাল ও বেতন ভাতার জন্য আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।
২ হাজার ৩ সালে চাকুরীর সুবাদে আহসান হাবীব বিএনপিতে যোগদান করলেও বিএনপি থেকে পদত্যাগ না করে বা পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদান না করেই বর্তমানে তিনি ৪নং দেলোয়া বাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত ২ হাজার ১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীক চেয়ে ছিলেন কিন্তু নেত্রী মনোনয়ন না দেওয়ার কারণে সে নৌকার বিরোধিতা করেন। তিনি এলাকায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘ নামে প্রায় ১৭ বিঘা খাস জমি দখল করে নিজে পরিচালনা করছেন।
তবে জিয়াউর রহমান বলেন, আমাকে হাট কানপাড়া জবেদা ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক (কম্পিউটার শিক্ষা) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং যোগদান পত্রের আলোকে আমি যোগদান করেছি। প্রত্যেক বছর অর্থাৎ ২ হাজার ৪ সাল থেকে ২ হাজার ২১ সাল পর্যন্ত চাকুরি পুনর্বহাল ও বেতনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে যাচ্ছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।
প্রভাষক (কম্পিউটার শিক্ষা) নিয়োগ বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রভাষক আহসান হাবিবের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, নিয়োগের বিষয়টি তৎকালীন অধ্যক্ষ সাহেবের সাথে কথা বললেই বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যাবেন। আমি সরকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগ নিয়েছি। আর নিয়োগ বোর্ডের বিষয়গুলি উনিরাই ভাল জানেন।
এ ব্যাপারে দূর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, সেই সময় নাদিম মোস্তফা বিষয়গুলো এবাউট করেছিল। উনি জোরপূর্বক আমাকে নিয়োগে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন। আমি স্বাক্ষর করতে না চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতি ও বিভিন্ন প্রকার নাতিজা করেছেন এবং আমাকে শোকজ করা হয়েছিল। আহসান হাবিবের নিয়োগপত্রে ও যোগদানপত্রে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করার পরে আমাকে অধ্যক্ষের চাকুরিতে আবার পূণ্যবাহাল করেছিল।
নিয়োগ বিষয়ে ২ হাজার ২ সালের হাট কানপড়া জোবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আব্দুল করিম মোল্লার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার মেয়ে সেলিনা পারভীন কোনা ফোনটি রিসিভ করে তিনি বলেন, আমার বাবা ২ হাজার ২০ সালের ১১ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। ২ হাজার ২ সালের দিকে আমার বাবা হাট কানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি ছিলেন এটা আমি জানি। তবে নিয়োগ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নাই।
এব্যাপারে বর্তমান হাট কানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্বাস আলীর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, হাট কানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজে আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার আগের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান প্রভাষক (কম্পিউটার শিক্ষা) পদে নিয়োগ সম্পন্ন করে যান। তবে নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়ে কলেজ খুললে আমি ফাইলপত্র খুঁজে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
