আলো ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয় মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে আন্দোলন করলে সেটা জায়েজ হয়। বিএনপি কারো সাথে রাজনীতি করলে সেটা অন্যায় হয়।
২০০১ সালের আগে আমাদের জামায়াতের সাথে একটা নির্বাচনী জোট ছিল। সেটা ছিল অংকের বিষয়। বিএনপি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ ধর্ম-বর্ণ, উপজাতি, বাঙালি সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি গঠন করেছিলেন। তিনি বিশ্বের বুকে সেটাই প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এবং আমরা আজকে সেটা পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের জন্য বাংলাদেশের মানুষ নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংবিধান রচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ যা চাইবে সেভাবে সংবিধান তৈরি করতে করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সংবিধান পরিবর্তন করতে চাইলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। সংবিধান কোনো বাইবেল নয়। মানুষের কল্যাণের জন্যই সংবিধান সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর সংবিধান মারাত্মকভাবে পরিবর্তন করছিল এই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কি ভুলে গেছে? তারা সংসদের ভিতরে ১১ মিনিটে সংবিধান পরিবর্তন করে বাকশাল কায়েম করেছিল।’ ‘আওয়ামী লীগ কোনোদিন গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না।
তারা একনায়তন্ত্রে ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ এর আগে যেভাবে বাকশাল কায়েম করেছিল, এবার অলিখিতভাবে বাকশাল কায়েম করেছে। তারা মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে,’ বলেন তিনি। বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়া মানুষের কাছে ফিরে এসেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভ‚ষিত করেছিলেন। এ দেশের মানুষ তাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিয়েছিল। তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে মানুষের কল্যাণ করেছেন।
এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার টিকে থাকার জন্য সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। তারা মানুষকে হত্যা, গুম, নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে আছে। দুর্নীতি করে সরকার লাখো কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। আজকের সরকার জানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ কাকে ভোট দেবে। তারা সেটা বুঝে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চায় না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, মানুষের চাহিদার জন্য, মানুষের আস্থার জন্য সংবিধান একবার কেন প্রয়োজন দশবার পরিবর্তন করতে হবে।’ ড. আবদুল মঈন খান আরো বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আগামীতে এই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দ্রব্যমূল্যে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, মানুষ কষ্ট আছে সেই কষ্ট দূর করার জন্য বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। সকল মানুষের পাশে বিএনপি আছে। আমরা ক্ষমতার জন্য নয় মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি।’
স্বাধীনতা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের যুগ্ম আহŸায়ক জাকারিয়া হোসেন ইমনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম, যুবদলের সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ সোহেল, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।
