আলো ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ম্যাডামকে দেখতে গেয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি এখন ভালো আছেন। সবাই দোয়া করবেন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।
তিনি যেন মুক্ত হয়ে ফিরে আসতে পারেন। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের ‘জাতিসত্ত্বার অন্তরালে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অনেকেই লিখতে পারি না। আমি লেখা ভুলে গেছি। রাজনীতির ঝামেলায় সব ভুলে গেছি। যখন জেলে ছিলাম তখন কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলাম।
পরে এসে দেখি ওটা এখন লেখা যাবে না। প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ করতে গেলে এখন যতটুকু হাঁটাহাঁটি করছি সেটাও করতে পারবো না। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি অস্বাভাবিক, বিকৃত অবস্থা বিরাজ করছে। সবার আগে আওয়ামী লীগের বিচার হবে এজন্য যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে তারা একটি বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সমস্ত অর্জনকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের যে সংসদ, সেই সংসদ তারা শেষ করে দিয়েছে। আমাদের যে বিচার ব্যবস্থা, সে বিচার ব্যবস্থাকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রশাসনকে তারা পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করেছে।
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগের গণমাধ্যমে পরিণত করেছে। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, এটা আওয়ামী লীগের চরিত্রের পুরোনো ইতিহাস। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একইভাবে তার দেশ পরিচালনা করেছে। শেষ পর্যন্ত ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা এটা এড়িয়ে যান। তারা গণতন্ত্রের কথা বলেন? এটা (বাকশাল) জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেন না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার অবৈধ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন। আমরা এ নির্বাচন মানি না।
এদেশের মালিক জনগণ, তারা একটি দিন পায়- যে দিনে তারা নিজেদের কথাটা, অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সেটা হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। আওয়ামী লীগ সেই অধিকারটাও কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হচ্ছে। সেখানেও দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ছাড়া কিছু নাই। আর কেউ নির্বাচন করতে পারবে না।
এমপি ঘোষণা দিচ্ছেন এখানে কোনো নির্বাচন হবে না। একজন চেয়ারম্যান থাকবেন, বাকিরা যাদের আমি সিলেক্ট করে দেবো তারাই হবেন সদস্য। তারপরও তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয় না। এটা তো রাষ্ট্রবিরোধী কথা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।
অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতাদের দৌরাত্মে এখন আর কেউ থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুরের এমপি বলছেন, আমি ঠিক করে দেবো কে চেয়ারম্যান হবে আর কে মেম্বার হবে। অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না! আমরা চিন্তাই করতে পারি না। ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে তারা এখন একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। এরা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। কারও সমালোচনা সহ্য করতে পারে না।
সহনশীলতা বলতে তাদের কিছুই নেই। মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের প্রতিবাদে আমরা একটা আলোচনা সভা করেছিলাম, আমাদের অফিসের সামনে। তারপর সবার শেষে আমাদের ছেলেরা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন তাদের পেছন থেকে আক্রমণ করে। টিয়ার শেল মেরে, গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। আহত করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশের বেশি মানুষকে। উল্টো তারা আবার মামলা দিয়েছে ১৬০০ মানুষের বিরুদ্ধে। এত ভয় পায় কেন? ভয় পাই এজন্য যে, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণ যেদিন বের হবে রাজপথে সেদিন আপনারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা এদেশের সন্তান। আপনারা মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করবেন না। আপনারা দুর্নীতি পরায়ন ও নির্যাতনকারী। রাষ্ট্রের একটা দলের সঙ্গে মিশে আপনারা জনগণের উপর এভাবে নির্যাতন করবেন না। আর এই সরকার আজ রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ নিজেদের পকেট ভারি করছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সংগঠিত হন।
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই, তবে সে নির্বাচন হতে হবে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। মির্জা ফখরুল বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে।
