সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রিপ্রেজেন্টিভ সম্পর্কের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে রিপ্রেজেন্টিভদের রোষানলে পড়েছে দুই সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনাটি ঘটে।
দুজন গণমাধ্যম কর্মী হলেন বৈশাখী টেলিভিশনের নওগাঁ সংবাদদাতা এবাদুল হক এবং বণিক বার্তার নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন।
জানা যায়, নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আসা সেবা প্রত্যাশী রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লেখা ঔষধ সরকারীভাবে রোগীদের দেওয়ার নিয়ম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকার ঔষধ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। যেখানে সকল ধরনের ঔষধ মজুদ রয়েছে। এসত্বেও অনেক চিকিৎসক বহির্বিভাগে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে বাহিরের বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ লিখছেন। চিকিৎসকের কক্ষে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে রোগীর প্রেসক্রিপশনে তাদের কোম্পানীর ঔষধ লিখিয়ে নিচ্ছেন। এতে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন দৈনন্দিন ১২০০-১৫০০ সেবা প্রত্যাশী রোগীরা। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত তথ্য সংগ্রহ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক।
প্রত্যক্ষদর্শী রশিদ, ফয়সাল এবং মেজবা জানান, অপসনিন কোম্পানীর এক প্রতিনিধি বিভিন্ন রিপ্রেজেন্টিভদের নিয়ে দলবন্ধভাবে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। পরে দেখলাম দুইজন সাংবাদিক ক্যামেরা স্টান্ড নিয়ে বের হচ্ছেন বের হওয়া মাত্রই তাদেরকে ঘেরাও করে রিপ্রেজেন্টিভরা। ধাক্কাধাক্কি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল থেকে চলে যান তারা।
রোষানলে পড়া দুই সাংবাদিক জানান, চিকিৎসক-রিপ্রেজেন্টিভ সম্পর্কে রোগীদের ভোগান্তী নিয়ে একটি প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শিশু বিভাগে চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরে অপসনিন কোম্পানীর প্রতিনিধি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখছিলেন। এসময় আমরা মুঠোফোনে ছবি তুললে তিনি সেখান থেকে দ্রুত সড়ে পড়েন এবং বাহিরে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় থেকে বের হয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকেট কাউন্টারের সামনে আসলে তারা আমাদের উপর সংঘবদ্ধভাবে আক্রমনের চেস্টা চালায়।
অপসোনিন ঔষধ কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার সফিক বলেন, বিষয়টি একটা ভূল বুঝাবুঝি ছাড়া অন্য কিছুই নয়। উত্তেজিত মুহুর্তে সাংবাদিকদের মোবাইলের অডিও রেকর্ড করতে নিষেধ করা হয়। ওই দুই সাংবাদিককে যখন ঘেরাও করা হয় তখন আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। ওখানে সাংবাদিকদের সাথে কোন অসাদচারন করা হয়নি।
এবিষয়ে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ইব্নে ইমাম বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা আসতেই পারেন। তবে তাদের উপর রিপ্রেজেন্টিভরা কখনোই হামলা করতে পারে না। বিষয়টি জানার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করতে আরএমও কে লিখিতপত্র দেয়া হয়েছে।
