আলো ডেস্ক: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই সরকারের হাত থেকে বাঁচতে পথ একটাই মরো না হলে মারো। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসন: ২৮ অক্টোবর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দুদু বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে নাই। কিন্তু সেই বাকশালের কর্মসূচিগুলো নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান সময়কে কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমাদের যার যেটুকু আছে সেটুকু নিয়ে যদি ঘুরে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে আমাদের জন্য যে কঠিন সময় আসছে সেটা খুব করুণ হবে।
দুদু বলেন, এই দুঃশাসনের শেষ সীমায় এরা (আওয়ামী লীগ) পৌঁছেছে। যদি একটু দৃঢ়তার সঙ্গে এক জায়গায় হতে পারি। একদিন পরেই নতুন মাস, তারপর আসবে নতুন বছর, এই নতুন মাসে নতুন কোনো সংবাদ আসতে পারে। যদি আমরা এক জায়গায় হতে পারি। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন বাড়ি ও কোর্ট ছাড়া কিছু বোঝেন না।
তিনি বলেছেন রাজপথ দখল ছাড়া এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি নাই। ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষও বুঝেছেন রাজপথ দখল ছাড়া মানুষের মুক্তি নাই। তাই পথ একটাই মরো না হলে মারো। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দেশে আইনের শাসন আছে, ন্যায়বিচার নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, আইনের শাসনের প্রতি দ্বিমত প্রকাশ করছি। আইনের শাসন আছে, ন্যায়বিচারের শাসন নেই। যারা ভিন্ন মতকে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারে না তাদের নাম আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে নানা আইন দিয়েই হয়রানি বা দমনপীড়ন করা হচ্ছে, কিন্তু ন্যায়বিচার করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয় টেনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন নির্বাচনে রাজাকারের ফাইল না কি জমেছে।
এতদিন নানা কথা বলতো, এখন তাদের ঘরেই ঢুকেছে। নিজেদের থুতু নিজেদেরই গায়ে পড়ছে। বিভিন্ন হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে হামলা হয়েছে তার কোনোটার কি বিচার হয়েছে? তাজিয়া হামলা, রামুতে হামলাসহ কোনোটার বিচার হয়নি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠার হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার হোক সেই আশা করি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠার আন্দোলনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, লগি বৈঠার আন্দোলনের দিন মানবাধিকারের কবর রচিত হয়েছিল। সেদিন গণতন্ত্রকেও আঘাত করেছিল। বর্বরোচিতভাবে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, সেদিন বর্বরোচিতভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা পরিবর্তন আনতে চেয়েছে যা মানুষ পছন্দ করেনি। তারপর ১/১১ এর সরকার আসলো। সেসময় অনেককে আটক করেছিল।
রাজনীতিতে শুদ্ধাচার করার নাম দিয়ে তা করা হলো। সেদিন দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। তাই সরকারের নানা জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে। বিএনপির এই জ্যেষ্ট নেতা আরও বলেন, ‘১/১১ এর সরকার নাকি আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল। দুই নেত্রীর সঙ্গে তখনকার সরকার আলোচনা করেছে। আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) তাদের বিদেশে যাওয়া ও অন্যায়ের সমর্থন করেনি।
আওয়ামী লীগ তাদের শর্ত মেনে নিয়ে তাদের অন্যায় ও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই তাদের স্বার্থে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসলেন। আলোচনা সভায় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারেসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান বিশ্বাস, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, নাগরিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান নেসার মাহমেদ নান্নু, নাগরিক ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।
