আলো ডেস্ক: চট্টগ্রামে ম্যানহোলে পড়ে একজন ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আসলে বাংলাদেশ নিজেই একটা ঢাকনাছাড়া ম্যানহোল, বাংলাদেশের কোনো ঢাকনা নাই, শুধু ম্যানহোল আছে। মানুষ ডুবে ডুবে মরছে।’ গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ‘প্রতিবাদী অবস্থান’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একজন চালক কর্তৃক নিজ বাইকে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সভা আয়োজন করে যুব ঐক্য। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা দেশ? এই যে সেদিন ঘটনাটা ঘটল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একজন ছাত্রী হাঁটতে গিয়ে ম্যানহোলে পড়ে গেল। ৭০ ফুট নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হলো। ওই ম্যানহোলে কিছু দিন আগে একজন মানুষ পড়ে গেল। তার লাশ পাওয়া যায়নি, কীভাবে সেই ম্যানহোল এখন পর্যন্ত ঢাকনাবিহীন রয়ে গেল- তা জানতে চাই।’ বাংলাদেশে চলতে গিয়ে এখন কোনো সুখি মানুষের চেহারা দেখতে পাওয়া যা না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মানুষ বাসে উঠতে গিয়ে কষ্ট পান, চাকরি করতে গিয়ে কষ্ট পায়, বাজার করতে গিয়ে কষ্ট পায়, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রদের বেতন দিতে গিয়ে কষ্ট পায়।’ মান্না বলেন, ‘১৮ মাস সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এই ১৮ মাসের বেতন নিয়েছেন কেন? এখন সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিচ্ছেন না কেন? লাইব্রেরি যদি খুলতে পারেন, হল খোলেন না কেন? হল যদি খোলা যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যায় না কেন? আস্তে আস্তে খুলে দেখছেন বিপদ আছে কিনা, তাই তো? যদি বিপদ দেখেন তাহলে বলবেন, ইনফেকশন বেড়ে গেছে।’ ‘প্রতি দিন কতজন লোক আক্রান্ত হলো, কতজন লোকের মৃত্যু হলো- সে ব্যাপারে সরকার নিয়মিত মিথ্যা কথা বলছে। তাদের সব তথ্য বানানো। এইভাবে পুরো জাতির সঙ্গে ভাওতাবাজী করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে তারা’- বলেন মান্না। নিজের মোটর সাইকেলে এক বাইক চালকের আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহরে যতো ট্যাক্সি চলে, সেই ট্যাক্সিগুলোর পার্কিং করার কোনো ব্যবস্থা করা হয় নাই। সেই পরিস্থিতি এই বাইক চালক বাড্ডায় একটা ইউটার্ন নিয়েছেন। ইউটার্নে কোনো ভুল ছিল? ইউটার্ন নিয়ে বায়ে তার গাড়ি রেখেছেন, তখন পুলিশ এসে তাকে ধরেছে। আমি শুধু বলতে চাই, নিয়মটা কী? উনি যদি একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকতে চান, এক গ্লাস পানি খেতে চান, তাহলে তিনি তার বাইক রাখবেন কই? সরকার কোনো ব্যবস্থা করেছে?’ মান্না বলেন, ‘পুলিশ তাকে (বাইক চালক) ধরেছে। ধরার সঙ্গে সঙ্গে রাগে-দুঃখে তিনি তার গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। সবচাইতে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে তার পরে। ঘটনার পর পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং ১৮ ঘণ্টা তাকে পুলিশের কাছে রাখা হয়েছে। আমি জানতে চাই, এই ১৮ ঘণ্টা পুলিশ তার কাছে কী জানতে চেয়েছে? ‘১৮ ঘণ্টা পর যখন তিনি বের হলেন, তখন বললেন- দোষ আমার, ভুল আমার। আমরা জানি না, কী কারণে ওই বাইকার বের হয়ে এসে বললেন, আমি ভুল করেছি, দোষ করেছি। সে কারণ আমরা জানি। আমরা লিমনের ঘটনা জানি। এই দেশে গুমের ইতিহাস জানি। আমরা এই দেশে রিমান্ডের নামে অত্যাচারের ইতিহাস জানি’- বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
