ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
ধর্ষণের আঠারো বছর পর এক ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিল আদালত। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে এক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ১৮ বছর পর মো. সোনাউল্যাহ (৫৫) নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণের শিকার হয়ে সেই ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া ছেলের বয়স এখন ১৭ বছর।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক বেগম সালমা খাতুন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। রায়ে একই সঙ্গে আসামীকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত হন। আসামির উপস্থিতিতে আদালত এ রায় দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী ২০ বছরের মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করেন সোনাউল্যাহ। কিন্তু ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিষয়টি সামনে আসেনি। এরপর অনেকদিন কেটে গেলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। তখন ভুক্তভোগী ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা আদালতে মামলার আবেদন দিলে আদালত কাজিপুর থানা পুলিশকে মামলাটি (এফআইআর) এজাহার হিসেবে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ মামলাটি নিয়ে তদন্ত করে আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এরই মধ্যে সেই প্রতিবন্ধী নারী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন (যার বর্তমান বয়স ১৭ বছর)। এভাবেই মামলাটি চলতে থাকে। মাঝখানে বাদী-বিবাদী হয়তো আপোস মীমাংসাও করে নেন। আদালতের বর্তমান বিচারক এ আদালতে দায়িত্ব পাওয়ার পরে তিনি অভিযুক্ত ও ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। এর মাঝেই সব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের ডিএনএ ম্যাচ করে। এরপর ডাক্তারের সাক্ষ্য নেয়া হলে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তখন সব সাক্ষ্য ও সাক্ষীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।
