স্টাফ রিপোর্টার
দিন দিন ভূমি সেবা উন্নত হওয়ার সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মানুষের দিনকাল, সেই সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ভুমি অফিসগুলোতে কমে গেছে জন ভোগান্তি। এরকমই তথ্য মিলেছে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ, সোনাডাঙা, একডালা, তাহেরপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক ভূমি মালিকদের কাছ থেকে।
ভবানীগঞ্জ, সোনাডাঙা, একডালা ও তাহেরপুরের মজনু মিয়া, হারাধন ঘোষ, বিমল পাল ও পানচাষী আফসার উদ্দিন সাথে কথা হলে তারা বলেন, ভূমি অফিসে বর্তমানে আর ভোগান্তি নেই। তাঁরা আন্তরিক। যে কোন সেবাগ্রহীতাই প্রয়োজনে তাঁর সাথে কথা বলতে পারে, তিনিও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন আন্তরিকভাবেই। সরকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার কার্যক্রম শুরু করেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জুলাই’২১ থেকে প্রচলিত (ম্যানুয়াল) পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইনে সকল ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে করে ভূমি মালিকরা ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ভূমি উন্নয়ন কর দিতে এবং দাখিলা সংগ্রহ করতে পারবেন।
তাহেরপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিজন কুমার প্রামানিক বলেন, এখানে সরকার নির্দেশিত ডিজিটালাইজড কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান সহজ করার জন্য নাগরিক কর্ণার থেকে রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে (হোল্ডিং ওপেনিং)। অনলাইনে কর জমা নেয়া হচ্ছে।
আমাদের এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশ “কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির স্বীকার হবে না। এ বিষয়ে বাগমারার এসিল্যান্ড মাহমুদুল হাসান বলেন, “সেবা দিতে হবে, কাজ করতে হবে -এটাই স্বাভাবিক ; আমার ভালো কাজ না করাটাই বরং অস্বাভাবিক হত। আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।
তাছাড়া আমার সকল পর্যায়ের সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে একা এত ভালো করা সম্ভব ছিল না। বাগমারার ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরাই কাজের ক্ষেত্রে আন্তরিক আর সে কারনেই আমার দিকনির্দেশনাগুলো কার্যকর করতে পারছি। তাছাড়া আমার ভালো কাজের পেছনে রয়েছে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক নির্দেশনা এবং উৎসাহ অনুপ্রেরণা ; আমি প্রচারে বিশ্বাসী নই,কাজে বিশ্বাসী।
ভূমি সেবায় বাগমারা উপজেলার সেবার মান দিন দিন ভালো হচ্ছে প্রসঙ্গ জানালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয় তথা সরকার তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে আমাদের ভূমি সেবা গ্রহীতাদের হয়রানিমুক্তভাবে, সহজে, স্বল্প সময়ে যেন সেবাটা দিতে পারি, এজন্য টোটালি একটা ভূমি ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি শুরু করতে যাচ্ছি, সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক এবং অনেক গুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছে ; আমরা আশা করি এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে মানুষ এ ভূমি অফিস গুলো থেকে আরও বেশী বেশী সেবা পাবেন।
