আলো ডেস্ক: রেলওয়ে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগবিধি প্রণয়নসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ক্যাডারবহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই নিয়োগবিধিতে মূলত রেলওয়ের পোষ্য এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার বঞ্চিত করার হচ্ছে।
এই নিয়োগবিধি জারির পূর্বে রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্পূর্ণ আলাদা। রেলওয়ে সরকারের অন্যান্য বিভাগের মতো নয়, বরং স্বতন্ত্র ইস্টাবলিস্টমেন্ট কোড ১ ও ২, জিএস রুলস, ইএনডি রুলসসহ বিভিন্ন কোড ও ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। রেলওয়ে একটি সম্পূর্ণ বিশেষায়িত টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান।
স্বাভাবিক কারণে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও পোষ্যরা মনে করে রেলওয়ে তাদের স্বতন্ত্র আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে এবং রেলওয়েকে চলমান স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা উচিত। ৮ দফা দাবি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে ক্যাডারবহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনতিবিলম্বে সংশোধন করে নিয়োগবিধি ১৯৮৫ অনুযায়ী পোষ্যর সংজ্ঞা, নিয়োগ পদ্ধতি, পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ, সরাসরি নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রেলওয়ে নিয়োগ ব্যুরো পুনর্বহাল, ব্লক পোস্ট না রাখা, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক কর্তৃক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা প্রদান পুনর্বহাল করতে হবে।
৮ দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ১০ শতাংশ করে রেলের পরিত্যক্ত ভূমি লিজের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও পোষ্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে এবং রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীর সন্তানদের স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে রেলওয়ে পোষ্য হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় রেলের অব্যবহৃত ভূমি লিজ প্রদান করতে হবে।
পরে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা। মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাবুসহ অনেকে।
