ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
জয়পুরহাটে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। গত ৫/৬ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এদিকে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডে জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। আর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরাও চিকিৎসাসেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুম, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পৌরসভার পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে।
জানা গেছে, শুধু জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালেই গত কয়েক দিন থেকে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে এসেছে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগী। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতাল, বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কনসালটেশন সেন্টারেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও বয়স্ক রোগী রয়েছে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ওইসব রোগীদের জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে জায়গা নিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।
এসব রোগীরা প্রচন্ড জ্বর, শরীর ব্যথা এবং শিশুরা সাধারণত বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটের ব্যথায় ভুগছিল, পরে অবস্থা সংকটাপন্ন ভেবে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তির পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা ৭-৮ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শহরের আরাফাত নগর মহল্লার ৪ বছরের শিশু আরজা, পাঁচবিবি উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের মুরছালিনের অভিভাবক জানান, তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচদিন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের এলাকার অনেক শিশুরাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
সদর উপজেলার হানাইল গ্রামের জাকির হেসেন বলেন, হঠাৎ ইফতারের পর তার স্ত্রীর পেট ব্যথার পাশাপাশি বমি শুরু হয়। এর পর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আমি নিজেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হই।
আবিদা সুলতানা নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ খুব খারাপ, নোংরা। মেঝেতে পা রাখার জায়গা নেই রোগীদের অনেক চাপ। সুস্থ মানুষ এখানে আসলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।
আজম জানান, প্রথমে পেট ব্যথা তার পর পায়খানা শুরু হয়। সেহরির সময় যখন পানি পান করি পানিটা ঘোলা ছিল। আমার ধারণা পৌর পৌরসভার পানির কারণে এই ডায়রিয়া হতে পারে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ পাপিয়া সুলতানা বলেন, গত কয়েকদিন থেকে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা হিমসিম খেতে হচ্ছে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক বলেন, শুষ্ক মৌসুম, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পৌরসভার পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। শহরে রাস্তার কাজ চলছে পানির লাইন ফেটে যাওয়ার কারণে সাপ্লাই পানি দুষিত হয়ে এই সমস্যা হতে পারে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের মাত্রাটা বেশি। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানি পরিহার করে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
