জীবন আলী সবুজ
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুলের নানা অনিয়ম দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাত, চাকরিচ্যুত, শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচারণ, ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার, স্কুল কমিটি জালিয়াতি, এইচএসসি ও স্নাতকে ৩য় শ্রেণী, কম্পিউটার শিক্ষক ও বিএড এর সার্টিফিকেট জাল করে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যমতে ও সরজমিনে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ১৯৮৪ সালে ২য় শ্রেণী পেয়ে এসএসসি পাস করেন, এরপর ১৯৯০ সালে ৩য় শ্রেণী পেয়ে এইচএসসি পাস করেন এবং ১৯৯৩ সালে ৩য় শ্রেণী পেয়ে বিএ পাস করেন। এর পর তার কোন কম্পিউটার সাটিফিকেট না থাকার পরেও ১৯৯৯ সালের ১৪ অক্টোবর বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে (কম্পিউটার শিক্ষক) হিসেবে যোগদান করেন ও এমপিওভুক্ত হন এবং ঔই তারিখ থেকে বেতন উত্তোলন করে আসছেন।
পরে তিনি গোপনে দূর্গাপুর উপজেলার সুদেবী কম্পিউটার সেন্টারের মাধ্যমে ২০০১ সালে ৬ মাসের কম্পিউটার ট্রেনিং দেখিয়ে একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, অত্র বিদ্যালয়ে জমা রাখেন। কিন্তু চাকুরী নিয়েছেন- ১৯৯৯ সালে। অনেক অর্থ খরচ করে তিনি সেই অভিযান থেকে বেঁচে যান এবং বিষয়গুলি ধামাচাপা পড়ে যায়।
এর পরে তিনি ২০০৭ সালে দারুল ইহসান প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে একটি বিএড এর সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে তিনি ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। একজন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকুরী নেওয়া ও অযোগ্য ব্যক্তি হয়েও প্রধান শিক্ষক হওয়ায় আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে দূর্গাপুর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। যাহার মামলা নাম্বার- ১৪৫/১৫ অঃ প্রঃ।
তবে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধি-মালার ৯নং ক্রমিকে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষা প্রবর্তিত হইলে সরাসরি-১। স্নাতক ২য় শ্রেণীর ডিগ্রী থাকতে হবে। ২। নট্রামস বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হইতে হইবে এবং ৩। সকল পরীক্ষায় ২য় বিভাগ থাকিতে হইবে। কিন্তু এগুলো প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের কিছু না থাকা সত্বেও তিনি বখতিয়ার পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথমে কম্পিউটার শিক্ষক এবং বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হয়ে থাকলেও বর্তমানে তিনি শোকজ হয়ে আছেন।
এ ব্যাপারে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি, এটা আমি পরে বলতিচি বলে মোবাইল ফোনটা কেটে দিয়ে, সুইজটপ করে দেন।
এ ব্যাপারে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রিয়াজুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, শিক্ষকের এগুলো নিয়োগ দেখার আমার কোন দায়িত্ব নাই।প্রধান শিক্ষকের চাকুরী থাকলে কি না থাকলে কি এগুলো বিষয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নাই।
এ বিষয়ে দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল রানা’র সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন এটা আবার মাস্টারের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ। এবিষয়ে আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করিব, তবে স্কুলের সম্পত্তির বিষয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তালিকা পূর্বক তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। বর্তমানে তদন্ত চলছে তবে তদন্ত রিপোর্টের উপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্ব-৫
