অনিবন্ধিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আলো ডেস্ক: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন না করলে ব্যবসা থেকে ‘আউট’ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সব ব্যবসায়ীকে দেওয়া হবে। আইসিটি বিভাগ এসব করে দিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। যারা নিবন্ধন করবে না, তারা ব্যবসা থেকে আউট হয়ে যাবে। এ নিবন্ধন করতে কোনো খরচ নেই। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ই-কমার্স নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইনগতভাবে চেক করার জন্য সেন্ট্রাল লজিকস্টিক ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের (সিএলটিপি) ব্যবস্থা করতে হবে। সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট কপ্লেইন সিস্টেম, কোথাও কারো অভিযোগ থাকলে, এখানে আসবে। আইসিটি বিভাগ আগামী তিন মাসের মধ্যে এসব করে দেবে। আগামী দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তারা ফলোআপ দেবে। এসক্রো সার্ভিস অটোমেটেড হবে। ইভ্যালি ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের নিয়ে ভাবনা কী, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটা নির্দেশনা এসেছে, ইভ্যালির ব্যাপারে। এটা একটা গাইডলাইন, এটা দিয়ে আমরা শুরু করতে পারি। যুবক ও ডেসটিনির গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবক ও ডেসটিনির স্থাবর সম্পত্তি আছে, সে সম্পত্তি তারা নিয়ে যেতে পারেনি। কিছু ক্যাশ তারা নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় সে সম্পত্তি রিলিজ করা গেলে, সেটার দাম পাওয়া গেলে, আদালত নির্দেশ দিলে দেওয়া যেতে পারে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রপার্টি বেদখল হয়ে আছে। এসক্রো সার্ভিসে আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা ফেরত পেতে ই-কমার্স গ্রাহকদের আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, টাকা ফেরতের বিষয়টি একটি বড় ইস্যু হয়ে গেছে। এটার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি দেখবে। নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সত্যিকার অর্থে জুলাই মাস থেকে যাদের টাকা আটকে আছে, সেগুলো যেন তাদের কাছে ফেরত যায়। এ বিষয়ে যেসব আইনি জটিলতা আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। ব্যবস্থা নিচ্ছি, একটু সময় লাগবে। জুলাই থেকে পেমেন্ট দিয়ে যারা বিভিন্ন কারণে ফেরত পাননি, সেটা ক্লিয়ার করে তারা যেন পায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভা থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, তারাও কাজ করছে। আপাতত মনে হচ্ছে, বিষয়গুলো একটা সিস্টেমের মধ্যে আনতে মাস তিনেক লেগে যাবে। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, গত ৩০ জুন এসক্রো সার্ভিসের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ১ জুলাই থেকে যেসব ট্রানজেকশন হয়েছে, সে ট্রানজেকশনের বিপরীতে টাকাগুলো ব্লক করা আছে। যেটা ডেলিভারি হয়নি, সে টাকাটা পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে আছে। সুতরাং সেক্ষেত্রে কাস্টমার ও টাকার পরিমাণ আইডেন্টিফাইড। সেগুলো আমরা আইনি জটিলতা কাটিয়ে ফেরতের ব্যবস্থা করবো। এ প্রতিনিধি আরও জানান, যেটা এসক্রো অ্যাকাউন্টে আছে, সেটা দেওয়া হবে। যে টাকা ই-কমার্স কোম্পানি নিয়েছে, সেটা তো বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই, সেটা তো দিতে পারবে না। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।