এক-এগারোর সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ: রিজভী

আলো ডেস্ক: ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশের রাজনীতিতে যে ‘দুর্যোগ’ নেমে এসেছিল তার ১৫তম বার্ষিকী ছিল দুদিন আগে। সেদিনটি নীরবে কাটালেও দু’দিন পরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘এক-এগারোর’ সুবিধাভোগী হিসেবে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী শাসনের ছত্রে ছত্রে শুধু পৈশাচিকতা ও বিভীষিকার উপস্থিতি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) গুমের কর্মসূচির বৃত্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর নাৎসিবাদী পন্থায় অপশাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

এদের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ থেকে বিরোধীশক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা। এরা নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের এক দূষিত মিশ্রণ। রিজভী বলেন, দুদিন আগে ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত দিবসের ১৫ বছর পূর্তি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল।

গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের অধিকার হরণ করে দেশকে নিক্ষেপ করেছিল একটা অন্ধকার গহ্বরে। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্মূলে দীর্ঘদিনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন গংয়ের তথাকথিত সরকার। বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের লক্ষ্যে সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করে বেআইনি সেনাসমর্থিত সরকার গঠন করা হয়।

গণতন্ত্রের চিরকালীন পথরেখায় চলমান নন্দিত একজন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বহুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে র্নিমূল করা।

দুই বছর দেশকে ছিন্নভিন্ন করে বেআইনি সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে একটি পাতানো ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে তাদেরই বশংবদ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছে। রিজভী বলেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এদেশের মানুষের কাক্সিক্ষত গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে আওয়ামী সরকার।

অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিনা নির্বাচনে পার্লামেন্ট, বিচারবিভাগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত করেছে। দেশকে গুম, খুন, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধ, অবিচার, অনাচার, লুটপাট, টাকাপাচার, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অন্ধকার রাজত্বে ডুবিয়ে রেখেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাস্তবে তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের পর পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, জনগণ হারিয়েছে বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। কথিত ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দেওয়া আজকের যে বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ মানুষ কখনো চায়নি। দেশটাকে নিয়ে আজ ভাগবাটেয়ারার হাট বসেছে। আজ সারাবিশ্ব থেকে নিষেধাজ্ঞা আসছে, এর মানে কী? বিশ্বের একশটির বেশি দেশ মনে করে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। ক্ষমতা দখল করে মানুষকে শোষণ করে নাম দিয়েছে রোল মডেল।

কোন দেশ এই রোল মডেলের কথা বলেছে, অনুসরণ করেছে, তা জনগণ জানতে চায়। রিজভী বলেন, আজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এই অনির্বাচিত সরকারের প্রতি অতিষ্ঠ ও বিক্ষুব্ধ। এই সরকারের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। একাত্তরের মতো বর্তমানে আওয়ামী হানাদারদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে সারাদেশের মানুষ আজ মুক্তিপাগল হয়ে উঠেছে। আমাদের সভাসমাবেশগুলোকে মানুষের ঊর্মিমুখর ঢল নামছে। ১৪৪ ভেঙে জন স্রোত নেমে আসছে রাজপথে।

জনগণের এখন সংশপ্তক অঙ্গীকার-জীবন দিয়ে হলেও এ মাফিয়াদের হটিয়ে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মহিলা দলের সভাপতি মহিলা আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।