করোনায় করণীয়

স ম্পা দ কী য়ঃ করোনা সংক্রমণের অমিক্রন ভেরিয়েন্ট জেকে বসেছে সারা বিশ্বে । বাড়ছে সংক্রমণের হার। ফলে পাঁচ মাস পর আবারো বিধি-নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে জনগণকে সচেতন করতে। সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গণ-পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন ও প্রত্যাহিত জীবনে হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

এ ছাড়া বাজার, মার্কেট, সপিংমল রাত ১০ টার পরিবর্তে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে হোটেল রেস্টুরেন্টে খেতে বা থাকতে টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করোনা টিকা গ্রহণের সনদ ছাড়া বিদ্যালয় কার্যক্রমে অংশ নেয়া যাবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হলে শাস্তির আওতায় আনবেন সংশ্লিষ্টদের।

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর মার্চের শেষে গণ-পরিবহন বন্ধসহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। বিধিনিষেধ জুলাই থেকে কিছুটা শিথিল হতে থাকলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার পর গত বছরে মার্চে আবারো করোনার ডেলটা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা যায়। ফলে আবারো কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

বিধিনিষেধের কারণে গত বছর মোট ৮৫ দিন গণ-পরিবহন বন্ধ ছিল। আগস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। কিন্তু নতুন বছরের শুরু হতে বিশ্বজুড়ে অমিক্রন তা-ব শুরু করে। যার ঢেউ বাংলাদেশেও লাগে। ফলে সরকার নাগরিক সুরক্ষার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর। অর্ধেক আসনে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলার নির্দেশনাও এদিন থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও তা আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে অন্য ঘোষণায় বলা হয়।

প্রায় ২১ মাসের মহামারি জীবনে লক-ডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে দেশের গন-টিকাদান কর্মসূচির পর সংক্রমণ কমতে থাকে। দেশে ৪৬ শতাংশ মানুষ এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছে আর দু’ডোজ টিকা পেয়েছেন ৩২ শতাংশ মানুষ। তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ টিকা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এখন সরকারের হাতে করোনা টিকার মজুদ রয়েছে।

যা দিয়ে সারা দেশের অধিকাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আরো টিকা আমদানি করা হবে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা হচ্ছে; গণ-পরিবহন চালাতে হলে চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনার টিকা সনদ থাকতে হবে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভোর থেকে রাত অবধি গাড়িতে থাকা গণ-পরিবহন শ্রমিক কর্মচারীদের কত জন টিকা পেয়েছেন বা কতজন বাকি আছেন এমন কোনো তথ্য গণ-পরিবহন সংশ্লিষ্ট কারো কাছে নেই।

অন্য পেশাজীবীদের জন্য টিকা দানের বিশেষ কর্মসূচি থাকলেও গণ-পরিবহন শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেই। তবে ১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার হিসেব সরকারের কাছে রয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, সড়ক পরিবহন খাতে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক যুক্ত। এর সাথে যানবাহন মেরামত সহ নানা কাজে যুক্ত আছেন আরো ২০ লাখ শ্রমিক। সব মিলিয়ে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, নছিমন, করিমনের সাথে যুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে শুধু যাত্রীবাহী শ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখ। এ ছাড়া লঞ্চ কর্মচারী শ্রমিক রয়েছে ২ লাখের মত।

তাদেরও টিকার আওতায় আনা সম্ভব না হলেও রেল সংশ্লিষ্ট কর্মচারী শ্রমিকদের টিকা আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। কাজেই গণ-পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা খুব জরুরি। কারণ এসব শ্রমিকরা গণ-পরিবহনে যাত্রীদের সাথে ভাড়া আদায় নিয়ে কথা বলেন যাত্রী ওঠান নামান। অধিক সংক্রমনশীল অমিক্রন থেকে জনগণকে বাঁচাতে তাদের টিকার আওতায় আনা খুবই জরুরি।

অন্যদিকে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করায়, ছাত্র-ছাত্রীদের টিকা নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। ফলে টিকা দান কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

টিকা নিতে এসে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। কাজেই টিকা দানের বুথ বাড়াতে হবে। গণ-পরিবহনের শ্রমিকদের বাস ট্রার্মিনালে টিকা দান কেন্দ্র খুলে তাদের লাইসেন্স দেখে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া নিজেদের সুরক্ষার জন্য নাগরিক সুরক্ষা খুবই জরুরি।