কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘গ্লোবাল গেইন’ গ্রুপের সিইও আটক

আবু হেনা মোস্তফা জামান
রাজশাহীতে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘গ্লোবাল গেইন’ গ্রুপের সিইও মো. সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইফুল ইসলামকে নগরীর শিরোইল বিন্দুর মোড় হোটেল ও রেস্টুরেন্টের দোতলায় অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রাহকরা। সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে নগরীর শিরোইল পুলিশ ফাঁড়িতে পরে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, নগরীর উপশহর নূর মসজিদ এলাকায় গ্লোবাল গেইন গ্রুপের অফিস ছিল। দুই মাস অফিসের কার্যক্রম ঠিকঠাক চলেছিল। এ দুই মাসে গ্রাহকের কোটি টাকা মেরে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। তাদের কারণে অনেকেই পথে বসেছেন।
তিনি বলেন, কথা ছিল ‘গ্লোবাল গেইন’ গ্রুপে ৫০ হাজার টাকা রাখলে প্রতিদিন ২০০ করে টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন পণ্য আছে। যেগুলো গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রায় ১৮০ জনের মতো গ্রাহক ছিল গ্লোবাল গেইন গ্রুপে। এদের কাছে থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে কোটি টাকার বেশি হাতিয়েছে চক্রটি।
ফারুক হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, নিজের ও অত্মীয়-স্বজনদের কাছে থেকে ধার নিয়ে এ গ্রুপে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। করোনার সময়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল- টাকা টাকাই থাকবে, মাঝখানে বসে বসে মুনাফা পাবেন। এমন প্রলোভনে ফারুক নিজের ভাই ও শাশুড়ির কাছে থেকে টাকা এনে দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্লোবাল গেইন’ গ্রুপে আমার একটি আইডি ছিল। ওই আইডি বা একাউন্টে টাকার ম্যাসেজ আসত। কিন্তু টাকা তোলা যায় না। আইডি বা একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ছিল গ্রুপের লোকদের হাতে। তারা চাইলে টাকা তোলা যেত, না চাইলে নয়। কয়েকবার যোগাযোগ করে ১২ হাজার টাকা তুলেছি। বাকি টাকা তাদের কাছেই রয়ে গেছে।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, শিরোইল বিন্দুর মোড়ের একটি হোটেলে ছয় ভুক্তভোগী ‘গোলাবাল গেইন’ গ্রুপের সিইও মো. সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে সেখান থেকে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আটক সাইফুল ইসলাম স্বীকার করেছেন তিনি একা একাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আরও কয়েকজন আছেন যারা পলাতক রয়েছেন। আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।