আলো ডেস্ক: বিএনপির সম্প্রীতি মিছিলেও সরকার বাধা দেয়। আজকে আমরা সম্প্রীতির মিছিলও করতে পারি না। সেখান থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে আন্দোলন করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব কথা বলেছেন। আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কে বলে বিএনপি আন্দোলন করে না? বিএনপি আন্দোলন করে বলেই তো ২৫ লাখ মামলা হয়েছে। এদেশে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন হবে। নির্বাচন হবে। খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। টুকু বলেন, একটা সময় আমরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছি৷ তখন রিকশাওয়ালা রিকশা রেখে, দোকানদার দোকান বন্ধ করে মাঠে নেমে আসত। এখন আর সেই অবস্থা নেই।
এখন আন্দোলনে নামার আগেই ভয় চাপে। যদি আমি গুলিবিদ্ধ বা গ্রেপ্তার হই, তাহলে আমার পরিবারের কী হবে? অথচ আইয়ুব খানের সময়ও আমরা তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছি। তখনও পুলিশের কাছ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছি। তখনও পুলিশ বাধা দেয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, সরকারের নেতারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। আমি বলি জাতীয়তাবাদের চেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষতা আর নাই। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছিল। ভারতে যখন বাবরি মসজিদের ঘটনা ঘটে তখনও বাংলাদশে কিছু হয়নি। অথচ এখন সম্প্রীতি হুমকির মুখে। জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছিলেন। তিনিই প্রথম ভাষণ দেন। মানুষ তখন আনন্দিত হয়েছিল যে, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যুদ্ধে নেমেছে। এখন নানা কথা বলা হয়। আমরা তো বেঁচে আছি। আমরা তো এই ইতিহাস জানি। জনগণও জানে, কে যুদ্ধ করেছে, আর কে করেনি।
বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল। নেতাকর্মীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে টুকু বলেন, আমাদের শক্ত আন্দোলনে নামতে হবে। যদি আমরা এ রাস্তা থেকে ফিরে আসি, তাহলে আমাদের দাস হয়ে থাকতে হবে। কোনো বিদেশি সরকার আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। আমাদের আন্দোলন করতে হবে। তার পরেই তো ক্ষমতা। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসি, মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা।
