বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে শীত বাড়তে পারে

আলো ডেস্ক: কয়েকদিন দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি দেখা দিয়েছিল। তবে আগামী তিনদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল তেঁতুলিয়ায়।

একদিন আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, একদিনের ব্যবধানে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা অথবা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও এবং তার আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া আগামী তিনদিনের মধ্যে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা কয়েকদিনে কিছুটা বেড়েছিল। তিনদিন না যেতে আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।

গত বৃহস্পতিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকেই শুরু হয় উত্তরের হিমেল হাওয়া। এর আগে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও ছিল থেমে থেমে। চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় দফায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

কনকনে শীতে কাহিল হয়ে পরেন দুস্থ আর খেটে খাওয়া মানুষ। চলতি সপ্তাহে শীতের তীব্রতা আরও বাড়কে বলে জানিয়েছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

এদিকে ঠান্ডার কারণে বেড়েছে শীতজনিত নানান রোগ বালাই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন অসংখ্য শীতজনিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশু রোগীদের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, চলতি সপ্তাহের শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।