রাজশাহীতে বাসচাপায় পল্লী চিকিৎস ও বাবা-ছেলের মৃত্যু

রাজশাহীর আলোঃ- রাজশাহীতে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে, রাজশাহীর আহম্মেদ নগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নাজমুল ইসলাম (২৯) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

তিনি পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নওদাপাড়ার দিক থেকে শালবাগানের দিকে আসছিল। অপরদিকে মহানগরী থেকে একটি বাস নওগাঁর দিকে যাচ্ছিল।

শালবাগান ওয়াসা অফিসের সামনে বাসটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ সময় বাসটি তাকে চাপা দিয়েই পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নগরীর বোয়ালিয়া থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম নাজমুল ইসলাম।

তিনি তানোর উপজেলার বিল্লিবাজার গ্রামের বাসিন্দা। ওই গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে তিনি। তার গ্রামের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্বজনেরা এলে এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলাও হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বাবা-ছেলের মৃত্যু: অন্যদিকে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী বিজয়নগর বাসলিতলায় বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সাজু মিয়া (৩৫) ও তার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল আলিফ।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সাজু মিয়া দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে চাকরির সুবাদে গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন।

সকালে মোটরসাইকেলে তিনি তার ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার এনজিও অফিসের সহকর্মীরা এসেছেন। তবে তার আত্মীয়-স্বজনেরা এখনও আসতে পারেননি।

তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই একটি মামলা হবে। মৃতের স্বজনদের মধ্যে থেকে কেউ না আসতে পারলে এনজিও অফিসের সহকর্মীরা একটি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।