সাঈদীকে আদর আপ্যায়ন করার কোনো মানে হয় না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আলো ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিক্তযুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আদর আপ্যায়ন করার কোনো মানে হয় না বলে মনে করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার অনুভূতির কথা বলবো।

আমি সরকার বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বলছি না। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো একজন কুখ্যাত রাজাকার, তার যুদ্ধকালীন যে ইতিহাস সেটা সবাই জানি, যিনি একের পর এক অস্থিতিশীল ঘটনা ঘটনার জন্য দায়ী।

তাদের সমর্থকেরা জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির বা আরেকটা ভার্সন আছে হেফাজতে ইসলাম। তবে সবাই না, সবার কথা বলছি না, উগ্রপন্থী যারা (তাদের কথা বলছি)।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যথন সাঈদীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে, যখন সাজা হয়ে যাচ্ছে, তখন চাঁদের মধ্যে সাঈদীর ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ঝড় তুলে ফেললো। তারমানে কতবড় পূণ্যবান লোক, আলেম প্রমাণ করতে চাইলো। এই সাঈদীর বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

তাকে এভাবে বছরের পর বছর কারাগারে রেখে, ভরণপোষণ দিয়ে, আদর আপ্যায়ন করে রাখার মানেটা কি? এই জিনিসটাকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না।

তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং আমি বলবো এই বাংলাদেশের কিছু মানুষ ছাড়া যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী তারা কেউই চায় না সাঈদীকে এভাবে কারাগারে সুন্দরভাবে আদর আপ্যায়ন করা হোক। এর কোনো মানে হয় না।

এর বিচার হওয়া উচিত। প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্ন করবেন হয়তো- তাহলে আপনি বিচার করেন। আমি কিভাবে করবো? এটা আইনমন্ত্রী ছাড়া তো করতে পারবেন না, আদালত ছাড়া তো হবে না। আমি বলতে চাই এ বিষয়টা নিয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত।

আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। কারণ আপনারাই সবথেকে বড় শক্তি। শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যদি তাকান মিডিয়াতে যারা কাজ করেন তাদের চেয়ে কেউ বেশি পাওয়ারফুল না।

বিচারের মাধ্যমে জেলে আছেন, বিচার কি ঠিক হয়নি? তাহলে কীভাবে চ্যালেঞ্জ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ না। আমি বলছি যে, তার যে অপরাধ সে অপরাধের মাত্রাটা মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের, সাধারণ মানুষ, দেশপ্রেমিক নিরীহ মানুষ তাদের এই বিষয়টা খুব কষ্ট দেয়।

ডা. মুরাদ বলেন, নতুন করে তুলছি না। আমি বললাম এটা আমাদের কাছে একটা অনুভূতিতে লাগে। আমি আমার অনুভূতির কথা বলছি। আমাকে আপনারা ভুলভাবে উপস্থাপন করবেন না দয়া করে। আমি বিচার বিভাগকে বা আদালতকে কোনোভাবেই (দায়ী করছি না), এ ক্ষেত্রে কোনো কথা বলার সুযোগ আমার নাই। আমি সেটা বলিও না।

আমার চাওয়াটা হলো তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। যে পরিমাণ অপরাধ উনি করেছেন সেই অনুযায়ী। কঠোর শাস্তি বলতে মৃত্যুদণ্ড চান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা হতে পারে। আমার বড় ভাই বিচারপতি, হাইকোর্টের রিট পিটিশন বেঞ্চে আছে। আমি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি,

এটার আইনি প্রক্রিয়াটা কি হতে পারে। আইনমন্ত্রী এটার সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। এ বিষয়টা নিয়ে আমরা কথা বলছি এজন্য যে, আসলে এ ইস্যুটা আমাদের জন্য একটা পীড়াদায়ক।

আসলে অন্য কিছু না। আমি কোনো চ্যালেঞ্জ বা কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু তুলি নাই। আমি বলতে চাচ্ছি যে এই ইস্যুটা পীড়াদায়ক। অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হয়নি, আপনি এটা মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে ডা. মুরাদ বলেন, আমি এটা নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না।

এটা বোধহয় একটু অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। আমি কিন্তু অন্য কিছু মিন করতে চাইনি। আমি আহ্বান জানিয়েছি, আমি ওটার মধ্যেই আছি। আমার মনে হয় আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

সেটা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে, রিভিউ হতে পারে। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলবো। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া আমি বলতে পারি না।