আলো ডেস্ক: ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আগের দুটি নির্বাচন প্রহসনের মাধ্যমে জয় করেছে। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে নির্বাচন হয়েছে; ২০১৮ সালে হয়েছে জালিয়াতি। এমন অশুভ চিন্তা নিয়ে ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার আদায়ে বিরোধী দলের আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিলে আগামী নির্বাচন আগের দুটির মতো হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১২ দলীয় জোট। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন রাস্তায় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
আওয়ামী সন্ত্রাস, সরকারের দমন-পীড়ন-নির্যাতন, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছে ও আকাক্সক্ষা তুলে ধরছি। সরকারের মতিগতি দেখে মনে হচ্ছে না তারা সমস্যা সমাধানের দিকে যাচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার আদায়ে বিরোধী দলের আন্দোলনে ভ্রুক্ষেপ না করে ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন ও ২০১৮ সালের জালিয়াতি ভোটের মতো কোনো অসৎ উপায় উদ্ভাবনের নেশায় বিভোর হয়ে আছে।
জনগণ সরকারের এই অশুভ চিন্তা ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন হতে দেবে না। বক্তারা আরও বলেন, রমজানের আগে এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুতের ৩ বার মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে দুর্বিষহ দুর্ভোগ নেমে আসবে। দেশের অবস্থা দিনে দিনে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। দেড়শ টাকার ব্রয়লার মুরগি আড়াইশ টাকায় উঠেছে, নব্বই টাকা ডজনের ফার্মের মুরগির ডিম ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশে নীরব দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সরকার নির্বিকার। গণ হাহাকারের ধ্বনি সরকারের কানে পৌঁছচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আবারও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরে আরও মূল্যবৃদ্ধির ব্যবস্থা করে অভাবী মানুষের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা করে যাচ্ছে।
যে সরকার জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বরদাস্ত করতে পারে না, সন্ত্রাসী হামলা-মামলা করে আন্দোলনকে বাধা দিচ্ছে সেই সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে কীভাবে বিরোধী দলকে নির্বাচনের মাঠে নির্বিঘ্নে প্রচারণা ও জনগণকে ভোট দিতে দিয়ে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় মেনে নেবে এটা দেশ দুনিয়ার কোনো মানুষকে বিশ্বাস করান যাবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের অনমনীয় মনোভাব সামগ্রিকভাবে আন্দোলনকে এক দফা সরকার পতনের দাবির দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করছে। জনগণ রাজপথে নেমে সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে। এমন একটা পরিস্থিতির দিকেই দেশবাসী ও দুনিয়া তাকিয়ে আছে।
জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিবের সঞ্চালনায় পদযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ এলডিপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গনি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান ক্বারী মুহাম্মদ আবু তাহের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ন্যাপ- ভাসানী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইসলামি ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবু হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তারিকুল ইসলাম। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভাইসচেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামসহ ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
