চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দাবি বিএনপির: ডেভেলপার মোস্তাফিজের বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার
প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ‘গ্রীনপ্লাজা প্রপার্টিজ’-এর মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের বিচার দাবি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ।
শনিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের রাজশাহী বিভাগের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন।
তিনি বলেন, “গ্রীনপ্লাজা প্রপার্টিজ-এর নামে ফ্ল্যাট বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বহু গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে তিনি নানা টালবাহানা ও প্রতারণামূলক আচরণ করে চলেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আমিনুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি ফ্ল্যাটের জন্য ২৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। সময়মতো ফ্ল্যাট না পেয়ে অর্থ ফেরত চাইলে মোস্তাফিজুর বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি ও হেনস্থার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতির চাপে ২০২৫ সালের ৩০ জুন বোয়ালিয়া থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি আপসনামা স্বাক্ষরিত হয়। এতে মোস্তাফিজ তিন মাসের মধ্যে অর্থ ফেরত বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তিনি উল্টো অপহরণসহ ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
সুমন অভিযোগ করেন, “মামলার ৫ নম্বর আসামি শাহরিয়ার সুজন তখন জেলে ছিলেন, ২২ নম্বর আসামি আরিফুল শেখ বনি রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রশ্ন থেকে যায় জেলে থাকা ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তি কিভাবে অপহরণে অংশ নেন?”
বক্তারা অভিযোগ করেন, এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতারকচক্রের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতারণার রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া থানা বিএনপি (পশ্চিম) সভাপতি শামসুজ্জামান মিলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি ও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ।
বক্তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি এবং প্রতারিত গ্রাহকদের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
