আলো ডেস্ক:
গত ৩০শে জুন জমি জায়গার বিরোধ ধরে নগরিতে দুই জন হত্যা হন। কাউন্সিলর কামালের ভাতিজা জয়নাল ও যুবদলের ক্যাডার নাজিরের ভাই বিএনপির নেতা শফিকুল নিহত হন। পরের দিনই কাউন্সিল কামাল বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার ১নং আসামী সালাম, মাজিদ, শিশির সহ আরো কয়েকজন। হত্যা মামলা হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় বিএনপি নেতা ও কুখ্যাত ভুমি দস্যু সালাম তার ছেলে শিশির ও যুবদলের অস্ত্রধারী ক্যাডার নাজির। এতদিন পেরিয়ে গেলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনি গ্রেপ্তার করতে পারেনি সালাম ও নাজিরকে। জয়নাল হত্যা মামলার ১নং আসামী সালাম গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ জয়নালের পরিবার। জয়নালের পরিবারবর্গ জানান সালাম গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে। সালামের ক্যাডাররা তাদেরকে হুমকি দিয়ে আসছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। এলাকা বাসী মুখ খুলছে তাদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর জানান বিএনপি সরকার থাকা কালীন সময়ে অবৈধ ভাবে জমি দখল, ঠিকাদারী সহ প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে কোটি পতি বনে যান ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মৃত. শফিকুল ও সালাম। নগরিতে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন সহ শত কোটি টাকার জমি। দুই ভায়ের রয়েছে লক্ষিপুরে মার্কেট। তাদের অবৈধ আয়ের উৎসের খোজে তৎপর গোয়েন্দা সংস্থগুলো। এলাকাবাসী বলেন, চর থেকে উঠে আসা দুই ভাই কিভাবে এত সম্পদের মালিক হল তা নিয়ে নগরির অনেকেই হতভম্ভ হয়ে যায়। ৩নং ওয়ার্ডের মৃত. শফিকুল ও সালামের রয়েছে একাধিক জমি ও বাড়ী। সালামের রয়েছে বিসমিল্লাহ মার্কেট। খোজ নিয়ে জানা যায় এটিও তার জবরদখলের ফল। বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেটের মালিক ছিলেন চার জন। এদের মধ্যে একজন মালিক বলেন ভুমিদস্যু সালাম জোরপূর্বক আমাদের মার্কেট জোর পূর্বক দখল করে নেন। জনয়ালের পরিবার জানান আলীগঞ্জে জামালের মোড়, পানসের খোকার মোড়ে, এবং ডাবতলার মোড়েও তার দখলের প্লট রয়েছে। চারখোটার মোড় থেকে গোরস্থানের পাশে তাদের রয়েছে একাধিক প্লট, দামকুড়ায় রয়েছে তার একাধিক প্লট। তাদের অবৈধ টাকার শেষ নেই। টাকা দিয়েই তারা প্রশাসন ম্যানেজ করছেন। এই কারনেই এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না সালাম। মৃত. শফিকুলের ইডেন গার্ডেন নামে একটি আবাসিক হোটেল যার মালিকানা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। ভ্যাট, ট্যাক্স ফাকি দিয়েই তারা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা বানিজ্য। সালাম ও শফিকুল দুই জনের রয়েছে সুদের ব্যবসা। শফিকুল মারা যাওয়ার পরে তার সুদের ব্যবসার হাল ধরেছে তার স্ত্রী। সালাম পলাতক থাকা কালীন সময়ে তার সুদের ব্যবসার হাল ধরেছে তার স্ত্রী। সুদের টাকার উৎস কোথায়। এনিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। ৩নং ওয়ার্ডবাসী এখন মুখ খুলছে সালামের বিরুদ্ধে। সালামের অত্যাচারে অনেকে আজ নিঃস্ব হয়েছে। ৩০শে জুন জমি জায়গার জের ধরে নগরিতে দুই গ্রুপের দুই জন হত্যা হয়। আওয়ামী পরিবারের সন্তান জয়নাল হত্যামালার আসামী সালাম, শিশির, নাজির সহ কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা রয়েছে। রাজপাড়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সালাম দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখল ও সুদের ব্যবসা করে আসছিল। এই নিয়ে এলাকায় নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে আসছিল। তাদের নামে রয়েছে একাধিক মামলা। আমরা গ্রেপ্তার করলেও কোটের মাধ্যমে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। সর্বশেষ ৩০ শে জুন হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পর থেকেই সালাম নজরে আসেন সবার। একাধিক পত্রিকায় তার নামে প্রতিবেদন হওয়ায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার সম্পদের খোজে তৎপর হয়েছেন। তার স্ত্রী তার বিভিন্ন সম্পদের খোজ খবর দিতে পারছেন না। বিভিন্ন জনের জমি দখল হওয়ায় তারাও ভয়ে মুখ খুলছিলনা সালামের বিরুদ্ধে। নিরীহ মানুষগুলো সালামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিচ্ছে। প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে ধন্যবাদ জানায় সাধারণ মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সালামের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। তারা বলেন প্রশাসনই পারে এধরনের ভুমিদস্যুর হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে। মধ্য কায়দায় যুগের জমি দখল করতেন সালাম এমটি জানান, ভুক্তভুগি একজন জানান। অনেকেই সালাম ও শফিকুলের জমি জবরদখলের শীকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ওয়ার্ডবাসী মাননীয় মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন। সালামে ভুমিদস্যুর শিকার যেন আর কেউ না হয়। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও নিস্তার পাইনি সালাম ও মৃত শফিকুলের হাত থেকে। ৩নং ওয়ার্ডবাসী সালামকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান একাধিক বার।
