আলো ডেস্কঃ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নয়, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়াই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মেডিকেল কলেজের ৮০ তম ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণা আবশ্যিক হয়ে পড়েছে এবং সরকার এ নিয়ে কাজ করছে। আমরা গবেষণার মধ্যে দিয়ে কীটনাশক, চিকিৎসা এমনকি চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছি।
বহির্বিশ্বের যেসব দেশ ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সফলতা অর্জন করেছে তাদের থেকে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, শুধু সরকারকে দোষারোপ করলে চলবে না। নিজের বাড়ির আঙিনা নিজেকেই পরিষ্কার রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন এসে এগুলো পরিষ্কার করবে না। অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে দিনদিন ডেঙ্গু রোগীর সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এখন ধর্মঘটের সময় নয়। এখন মানুষের সেবার প্রয়োজন, চিকিৎসার প্রয়োজন।
আর তারা বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘটে গেলে তা আমি সঠিকভাবে নিতে পারছি না। তারপরও অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দাবির বিষয়ে সমাধান করা হবে। মানুষ বিদেশে যায় দেশের ডাক্তারদের ওপর আস্থা না রাখতে পেরে। তারা যেন আস্থার জায়গাটা না হারায় সেটা খেয়াল রাখতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ তার সুফল পাঁচ্ছে। আমাদের মোট সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে প্রায় ৩৭টি। সিটের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজারের বেশি।
এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী। তার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৯ হাজারের মতো। এখান থেকে ভর্তির সুযোগ পাবে ১১ হাজার শিক্ষার্থী। আর বাকিদের আমরা বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। আমরা চাই স্বচ্ছতা বজায় থাকুক। তাই আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়েছি। আমাদের পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি, সবাই প্রশংসা করেছে। আমি শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। যেখানে করোনায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়নি, আমরা তখনও পরীক্ষা নিয়েছি।
আমরা অটো পাশের দিকে যাইনি, মেডিকেলে অটোপাশ বলতে কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, যারা এখানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হতে পেরেছ তোমরা খুব ভাগ্যবান। আপনারা অভিভাবক যারা আছেন তাদেরকেও অভিনন্দন। আমার বাবা-মা যেখানে বসতে পারে নাই সেখানে আপনারা বসেছেন। আমিও এখানে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাইনি। আপনাদের সন্তানদেরকেও অভিনন্দন। মন্ত্রী বলেন, আমি সরকারি প্রশাসনে এমনও দেখেছি, ডাক্তার কিন্তু অন্য ক্যাডারে কাজ করছে।
তারা যে পাঁচ-ছয় বছর জনগণের টাকা, সরকারের টাকা খরচ করে পড়াশোনা করলো কিন্তু জনগণকে সেবা দিতে পারল না, এটা মানা যায় না। তোমাদের মাথায় রাখতে হবে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তোমারা পড়াশোনা করো। একজন মেডিকেলের শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। মানুষ বিদেশে যায় দেশের ডাক্তারদের ওপর আস্থা না রাখতে পেরে, তারা যেন আস্থার জায়গাটা না হারায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারের সচিব মো. আজিজুর রহমান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।
