আলো ডেস্ক: করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) সংক্রমণ কমলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে।
জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় আব্বাস বলেন, দেশে আজ নতুনরূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারেন না।
সাংবাদিকরা লিখলে সাগর-রুনির পরিণতি ভোগ করতে হয়, জেলে যেতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে টুটি চেপে ধরে রেখেছে। অনেক সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাকশাল কী জিনিস নতুন প্রজন্ম তা জানে না। সেসময় মায়ের বুকে যুবকরা ঘুমাতে পারতো না। আওয়ামী লীগ ও রক্ষীবাহিনী গণবাহিনী আখ্যা দিয়ে ৫০ হাজার যুবককে হত্যা করে।
এই আওয়ামী লীগ মানেই গণতন্ত্র হত্যা। যখনই এরা ক্ষমতায় আসে তখনই খুন-গুম ও লুটতরাজের স্বর্গ তৈরি করে। লুট করে নেয় বাক-স্বাধীনতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে! লবিস্ট কী জিনিস তাইতো আমরা জানতাম না।
১৪ সালে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে নানা অপকর্ম ঢাকতে আপনারাই অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। আপনারা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা কী বিশ্ব দেখে না? ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। সভাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।
