গোদাগাড়ীতে আমের মুকুলে মাতোয়ারা প্রকৃতি, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বাগান মালিকদের
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আমের বাগানগুলোতে এখন বসন্তের সৌরভ ছড়াচ্ছে। গাছের ডালপালা জুড়ে ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। শীত শেষে প্রকৃতি নতুন রূপে সেজেছে। মুকুলের মিষ্টি সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় বাগান থেকে শুরু করে ছোট ছোট গাছেও মুকুলে ভরে গেছে। এই সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিকে নয়, মানুষের মনকেও রাঙিয়ে তুলেছে।
বাগান মালিকদের আশা, এই বছর আবহাওয়ার অনুকূলতায় ও সঠিক পরিচর্যায় বাম্পার ফলন হতে পারে। খিরসাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া এবং ফজলি জাতের আমের জন্য বিখ্যাত গোদাগাড়ী। এসব গাছে মুকুলের ভালো উপস্থিতি দেখে বাগান মালিকদের মনে স্বপ্ন জেগেছে।
স্থানীয় বাগান সালাউদ্দিন বলেন, “এবারের আবহাওয়া খুব ভালো। মুকুল আসার সময় তেমন কোনো সমস্যাও হয়নি। আমরা যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারি, তাহলে ফলনও ভালো হবে। গত বছরের তুলনায় এই বছর মুকুল বেশি এসেছে।”
মুকুলের পরিচর্যায় বিশেষ দিকনির্দেশনা, আমের মুকুলের উন্নত উৎপাদন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষকরা সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন।
মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে সাইপারমেথ্রিন বা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
স্প্রের একদিন পর সালফার বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
মুকুল আসার তিন মাস আগে গাছে সেচ বন্ধ রাখতে হবে। মুকুল ফোটার শেষে ও ফল মটরদানার মতো হলে একবার সেচ দিতে হবে। ফুল ফোটার আগে কোনো সেচ দেওয়া যাবে না। গাছের গোড়া সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। কারণ এগুলো পোকামাকড়ের আবাসস্থল হতে পারে।
মুকুল ৪-৬ ইঞ্চি হলে হপার পোকা দমনে ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ম্যানকোজেব বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করাও জরুরি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ মরিয়ম আহমেদ বলেন, আমের মুকুল ও গাছের সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে আমরা নিয়মিত বাগান মালিকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। আবহাওয়া যদি অনুকূল থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয়, তবে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা সঠিক নিয়ম মেনে চললে ভালো ফলন পেতে কোনো বাধা থাকবে না।
এই সময়টা গোদাগাড়ীর আম বাগান মালিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল ঠিকমতো টিকলে এবং আবহাওয়ার কোনো বিপর্যয় না ঘটলে ফলনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বাগান মালিক ও কৃষকরা এখন গাছের মুকুলের সঠিক পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুকুলের সৌরভে গোদাগাড়ীর প্রকৃতি যেমন মাতোয়ারা, তেমনি বাম্পার ফলনের আশায় বাগান মালিকদের মুখেও হাসি ফুটেছে।
