স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী মহানগরীর রেশমপট্টি এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) চার বস্তা চাল জব্দ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রবিবার বেলা ৩টার দিকে বোয়ালিয়া থানাধীন কাজল মিয়ার মুদি দোকানে এ চাল জব্দ হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দারা জানান, দোকানটিতে কিছুক্ষণ পর পর সাধারণ বস্তায় করে রিকশাযোগে চাল আনা হচ্ছিল। দোকানদার কাজল ও তার কর্মচারী বস্তা ওজন করে নামিয়ে নিচ্ছিলেন। সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা দোকানে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে দোকানের তালা খুলে চার বস্তা চালসহ বিপুলসংখ্যক খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানদার কাজল স্বীকার করেন, তিনি কয়েকজন ওএমএস ডিলারের কাছ থেকে চালগুলো সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের এসআই রেজাউল করিম বলেন, “চালটি ওএমএসের এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু সরকারি বস্তা পরিবর্তন করা হয়েছে।”
এদিকে অতিরিক্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে জানান, সরকারি বস্তা পাওয়া না যাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিক্ষা করে দোকানী ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সময় কাজল ও তার সহযোগীদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সাংবাদিকদের ওপর রাগত আচরণ করেন এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেন।
স্থানীয়রা জানান, কাজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডিলারদের কাছ থেকে কম দামে ওএমএস চাল ও আটা কিনে সাধারণ বস্তায় ভরে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করছেন। সরকারি বস্তা পরিবর্তনই তার প্রধান কৌশল। তারা আরও জানান, টিসিবির তেল পাচারের ঘটনাতেও তাকে একবার ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর দুই লাখ টাকা জরিমানা ও তার ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।
বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ওএমএস কার্যক্রম এসিল্যান্ডের তত্ত¡াবধানে। বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না থাকায় এসব অনিয়ম দুঃসাহসের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রæত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
