আলো ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহŸায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত দিয়ে পালাতে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার রাজুকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল। গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুতে সেটি হত্যা মামলায় (৩০২ ধারা) রূপান্তরিত হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালক এবং তাকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউসহ অন্যরা রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত এক শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজুর জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাÐের পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
