আলো ডেস্ক: বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরি হারানো রাজধানীর মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনিসহ চাকরিচ্যুত সব শিক্ষক-কর্মচারীর পুনর্বহাল ও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাশিস উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফজর আলী বলেন, সারাদেশে যেসব শিক্ষক-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হয়েছে তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। সন্ত্রাসী কায়দায় জোর করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হয়নি বরং শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি ও নির্যাতন চলছে। এটা দুঃখজনক। ম্যানেজিং কমিটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়ম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ প্রথা বিলুপ্ত করা উচিত। অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, জাতীয়করণ হলেই এসব সমস্যার নিরসন হবে।
আমরা সারাদেশে দেখছি, ম্যানেজিং কমিটি ও সভাপতি কোনো নিয়ম ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহিষ্কার করছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। বাশিস সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের মুখপাত্র ভুক্তভোগী মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শিক্ষকদের নির্যাতন করে চাকরিচ্যুত করছে। এতে সরকারেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সারাদেশে যাদের এমন হয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাই। শিক্ষার গুণগতমান হ্রাস পাচ্ছে। মুজিববর্ষে এসে এসব হওয়াটা দুঃখজনক। করোনার কারণে শিক্ষকদের এমনিতেই করুণ অবস্থা। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন।
তাই অবলম্বে জাতীয়করণ দরকার। এতে বড় কোনো রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা না, বরং শিক্ষার মান বাড়বে। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাশিস-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আতিকুর রহমান তালুকদার, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মজিবুর রহমান, বাশিসের কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত মহাসচিব ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, মোস্তফা কামাল খান, তানিয়া আক্তার, সহকারী মহাসচিব ঝর্না আক্তার, মো. আলমগীর হোসেন তালুকদার, মো. মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. সামসুল হক তরফদার, সহ-অর্থ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।
