স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহীর পবা উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তারই সহকারী শিক্ষিকাকে নানা ধরনের গালিগালাজ কান ধরে উঠবোস করতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটান হরিপুর ইউনিয়নের হাড়ুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী। তিনি অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসীকে জোরপ‚র্বক কান ধরে উঠবোস করিয়েছেন। এনিয়ে অত্র এলাকাসহ পবায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভ‚ক্তভোগি শিক্ষিকা প্রতিকার চেয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি আবেদন করেছেন।
আবেদনে জান্নাতুল ফেরদৌস উল্লেখ করেন, হাড়ুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী তাঁর ছবি ২১আগস্ট হোয়াটস-অ্যাপ এর মাধ্যমে তাঁকে দেন। তিনি হোয়াটস-অ্যাপে ছবিটি ওপেন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল গ্যালারীতে যুক্ত হয় এবং সেখান থেকে ফেসবুক আইডির ষ্টোরিতে ভুলবশত চলে যায়। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে বুঝতে পারেননি।
মোবাইল ফোন চালাতে অদক্ষ বলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এই ভুলের কারণে তারা দুই বোন বার বার প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসীর নিকট ক্ষমা চান। এত কিছুর পরেও তিন দিনের নৈর্ব্যক্তিক ছুটিতে থাকা প্রধান শিক্ষিকার আদেশে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ইসমত আরার নিদের্শে স্কুল চলাকালীন সময়ে সোয়া ১১টার দিকে জেসমিন সুলতানা ববি বাড়ি থেকে জোরপ‚র্বক তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে যান।
প্রধান শিক্ষিকা তাঁর ছোট বোনকে তিন দিন পর মোবাইল ফোন দিতে চায় বলে জানান জান্নাতুল। বুধবার (২৪ আগস্ট) জোরপ‚র্বক নাজমা ফেরদৌসীর স্বামী ও বহিরাগত আব্দুল আজিজকে অফিসে ডেকে নিয়ে এসে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিস কক্ষে সকল সহকারী শিক্ষকের সামনে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করেন এবং প্রধান শিক্ষিকার সামনে বহিরাগত আব্দুল আজিজ মারতে যান।
শুধু তাই নয় পরবর্তীতে কান ধরে সকলের সামনে উঠবোস করান। এছাড়াও বহিরাগত আব্দুল আজিজ তুই বলে সংবোধন করেন এবং প্রধান শিক্ষকের পা ধরে মাফ চাইতে বলেন বলে জানান তিনি। এই ঘটনায় তিনি চরম মানুষিকভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষিকা তাঁর মোবাইল ফোনটি ফেরত দেয়নি বলে তিনি জানান। সেইসাথে তদন্ত প‚র্বক সঠিক সুবিচারের দাবি জানান জান্নাতুল।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌস বলেন, কান ধরে উঠবোস করানোর অভিযোগটি সত্য নয়। তিনি বলেন, ঐ শিক্ষিকা তাঁর ছবি দিয়ে টিকটক বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে শ্রেণি শিক্ষকদেরকে দেখান। এ কারনে তিনি ঐ শিক্ষিকাকে অফিস রুমে ডেকে সতর্ক করেছেন মাত্র।লিখিত অভি
যোগের বিষয়ে পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে একজন শিক্ষককে তদন্ত ভার ও দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে প‚র্ণ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পেলে প্রকৃত ঘটনা জানাতে পারবেন বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।
এবিষয়ে জানার জন্য রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম এর নিকট শুক্রবার ৩টার দিকে মোবাইল করলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
