আলো ডেস্ক: বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, চাল-ডাল-তেল-কৃষি উপকরণ-শিক্ষা উপকরণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত করে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ১১ মার্চ গতকাল শনিবার সারাদেশের মহানগর ও জেলা পর্যায়ে ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও সমমনা জোট। গতকাল শনিবার ঢাকাসহ দেশের ৮ বিভাগীয় শহরের থানায় থানায় পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং সমমনা জোট ও দলগুলোর নেতারা নিজ নিজ পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশ থেকে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এদিকে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ মার্চের মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণ, বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনে পদযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে একই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। পরে সেখান থেকে পুরানা পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয় পদযাত্রা। ফরহাদ বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। ক্ষমতাসীনরা এখন বলছে, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন। আমরা বলবো, খালেদা জিয়া শুধু রাজনীতি কেন, নির্বাচনও করবেন। তিনি আগামীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীও হবেন। ফরহাদ বলেন, সরকারের দুঃশাসনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তারা ব্যস্ত দুর্নীতি ও লুটপাটে। লুটপাটের মাধ্যমে দেশ থেকে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব টাকা ফেরত আনতে হবে, দুর্নীতির বিচার করতে হবে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে।
জনগণের দাবি মেনে অবিলম্বে পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বেপারী, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব আবদুল বারিক, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ। অন্যদিকে, গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পরে গণতন্ত্র মঞ্চের পদযাত্রা প্রেস ক্লাব থেকে সেগুনবাগিচা হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বাবলু বলেন, এরইমধ্যে সরকার সংলাপের বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করেছে। আগে আপনাদের ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। তাহলে আমরা বিবেচনা করবো আপনাদের সঙ্গে আলোচনায় যাবো কি না। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অবিলম্বে আদানি গ্রæপের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করুন। না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতবারের নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মিথ্যা কথা বলি না।
আমরা দেখেছি তারা কী করেছে গত নির্বাচনে। এবার আর কথা বিশ্বাস করবো না। এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলন করতে হবে। তার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবো না। তাদের সংলাপের টোপে আমরা পড়বো না। অচিরেই বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকবে। ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দরের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
