আলো ডেস্ক: নওগাঁয় র্যাবের হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর লালমাটিয়ায় আসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়া, অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করার নির্দেশনা দিন। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করুন।
আইনের আওতায় নিয়ে আসুন, বিচার করুন। আর একটি মানুষও যাতে এই ধরনের নির্যাতন, হয়রানি, খুনের শিকার না হন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি, আমাদের আর কথা বলার সুযোগ নেই। একজনের কাছেই সবকিছু, একজনের ওপরই নির্ভর করে। সেই জায়গা থেকে এই আহ্বান জানানো। আসকের পরিচালক (কর্মসূচি) নীনা গোস্বামী বলেন, নারীদের এভাবে হয়রানি করা এটা আমাদের সমাজে আরও বেশি উদ্বেগজনক। নারীকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে কীভাবে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার একটাও এখানে মানা হয়নি।
নুর খান বলেন, নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় র্যাব যে মামলা দিয়েছে সেই মামলার এজাহার দেখলে বোঝা যাচ্ছে ঘটনাটি সৃজনকৃত বা তৈরি করা। এ ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। পুলিশের কোনো কার্যক্রম র্যাবের ওপর বর্তায় না জানিয়ে নুর খান বলেন, জেসমিন ইস্যুতে এখন সরকারের উচিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের মধ্যদিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা। জেসমিনের ছেলে শাহেদ হোসেন সৈকতকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজশাহী র্যাব ক্যাম্পে কেন নেওয়া হয়েছিল এবং কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সৈকতকে কী ধরনের বার্তা দিয়েছেন তা খুঁজে বের করতে হবে।
এ ছাড়া শাহেদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তাসহ তাদের সঙ্গে র্যাব যেন কোনোভাবে যোগাযোগ না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জেসমিনের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আসকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, জেসমিন আটকের সময় তার হাতে সোনার চুড়ি, গলায় সোনার চেইন, কানে দুল ছিল যা জব্দ তালিকায় নেই। এমনকি র্যাব বা কোনো পক্ষ থেকে এগুলো পরিবারকে ফেরতও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, স্থানীয় থানা থেকে আমরা জেনেছি জেসমিনকে আটকের বিষয়টি থানা অবহিত ছিল না।
এমনকি আটকের পরও না। পুলিশের কাছে কোনো মামলাই হয়নি। জেসমিনের তো একটা ঠিকানা ছিল, এভাবে আটকের এখতিয়ার র্যাবের নেই। এ ইস্যুতে আসকের অনুসন্ধানে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে নুর খান বলেন, আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বিতর্কিত আইন বলে আপনারা বলে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় আগে আসামি গ্রেপ্তার করে, এরপর মামলা দেয়। আবার আইনমন্ত্রী বলেছেন, তাদের একটি সেল আছে। মামলা হলে সেই সেল আগে সবকিছু নিরূপণ করে।
জেসমিনের ক্ষেত্রে কী তার ব্যত্যয় ঘটেছে- এমন প্রশ্নে নুর খান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, এজন্য আমরা মামলাটি বাতিল চেয়েছিলাম। জেসমিনের ঘটনায় যা ঘটেছে তা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল করিব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক (কর্মসূচি) নীনা গোস্বামী প্রমুখ। ২৪ মার্চ নওগাঁয় র্যাবের হাতে আটকের পর ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২২ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর ২৫ মার্চ দুপুরের দিকে সুলতানার লাশ বুঝে পায় তার পরিবার।
