আলো ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনটি জায়গায় চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। এর মধ্যে দুটি জায়গায় ছিল মুক্ত জলাশয়। জলাশয়গুলো ভরাট করে কাজ শুরু হওয়ায় প্রভাব পড়েছে সেখানকার জীববৈচিত্র্যের ওপর।
এরইমধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলছে সাপের। ঢুকে পড়ছে হলের ভেতরেও। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এছাড়া প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রাণীর। যার অধিকাংশরই এসব জলাশয়ে বসবাস ছিল বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া এ বছর শীতকালে অতিথি পাখিরও দেখা মিলবে না বলে জানাচ্ছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ কামারুজ্জামান হল নির্মাণ করা হচ্ছে মাদার বখশ হলের সামনে। সেখানে এরইমধ্যে জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়া হলের পেছনের জলাশয়টি ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ হাসিনা হল।
শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে ঔষধী বাগানে নির্মাণ হচ্ছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ভবন। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরবর্তী ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে এসব ভরাটকৃত জায়গার পাশে এবং হলের ভেতর দেখা মিলছে সাপের। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া হল থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি সাপ।
এ ছাড়া মুন্নুজান হল থেকে একটি, মাদার বখশ হল ও হল এলাকা থেকে দুটি সাপ উদ্ধার হয়েছে। মোট ৯টি সাপের কথা জানেন ক্যাম্পাসে সাপ উদ্ধার ও নিরাপদে ছেড়ে দেওয়ার কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান।
এর মধ্য থেকে তিনি চারটি সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে ছেড়ে দিয়েছেন। সর্বশেষ ১১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের সামনে থেকে একটি সাপ উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেন।
এর আগে ২৫ অক্টোবর ও ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের ডাইনিং থেকে ঘরগিন্নি সাপ উদ্ধার করেন তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, যে সাপগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে ঘরগিন্নি ও মেটে সাপ বেশি।
কয়েকটি কারণে এরা জনবহুল এলাকায় আসতে পারে। এর মধ্যে শীতকাল হওয়ায় তারা উষ্ণতা খোঁজার জন্য মানুষের কাছাকাছি আসছে, কোনোটি তাদের খাবারের খোঁজে বের হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি কারণ হতে পারে যেসব জলাশয়ে এদের বসবাসের স্থান ছিল সেগুলো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভরাট করে দেওয়ায় তাদের দেখা মিলছে। জানতে চাইলে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দা নুসরাত জাহান বলেন, হলে সাপের উপদ্রব এর আগে সেরকমটা ছিল না।
ধারণা করা হচ্ছে, হলের পাশেই বেশ ঝোপঝাড় ছিল এবং নতুন হল নির্মাণের জন্য বিশাল জলাশয় ভরাট করাতে সাপের আবাসস্থল সঙ্কট হয়েছে। ফলে সাপগুলো আশপাশে ঠাঁই নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। হলে যাতে সাপ ঢুকতে না পারে এজন্য চারদিকে কার্বলিক অ্যাসিড ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ফারুকী বলেন, এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ঝোপঝাড়ে বসবাসরত প্রাণীদের জন্য বেশ উপযোগী একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে খালেদা জিয়া হলের পাশে বিশাল জলাশয় ভরাট করায় সাপের বাস্তুসংস্থানের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
যার ফলে তারা এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি করছে এবং আশপাশে হলে ঢুকে যাচ্ছে। তবে নতুন আরেকটি পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বসবাসের জায়গা ভরাট করার ফলে পরিবেশের ক্ষতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সেখানে গিয়ে কিছু করা আমাদের এখতিয়ারে নেই।
