স্টাফ রিপোর্টার
পবায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. রাজীব আলী পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুনের কাছে পারিবারিক মামলার নোটিশ দিতে আসেন। যার মামলা নং ১২১৯পি/২০২৩ পুঠিয়া। তাদের জমির অংশিদার প্রাপ্যতা নিয়ে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করেন মোসা. ইকতার জাহান। সেই মামলার তফসিলভুক্ত জমির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আগামী ৩ ডিসেম্বর সকল পক্ষের শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকার নোটিশটি ছিল।
দুপুরে পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুনকে নোটিশটি দিতে গেলে তিনি নিতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি পুঠিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. রাজীব আলীকে গালমন্দ ও ধাক্কা দিয়ে তার ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। নকল নবীশ আফরোজা খাতুনের এমন আচরনে উপস্থিত অনেকেই হতবাক হয়ে যান এবং রাজীব আলীকে সরিয়ে নেন। এরপর পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের হস্তক্ষেপে নোটিশটি বিবাদীর পক্ষে মুরসালিন নামের একজন উপস্থিতির স্বাক্ষর করেন।
পুঠিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. রাজীব আলী বলেন, ‘মামলার বিবাদী পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুনকে নোটিশটি গ্রহণ করতে বলি। তখন তিনি অযথায় রাগান্বিত হন এবং সকলকে দোষারোপ করতে থাকেন। আমি যখন বলি নোটিশটি নেন এবং আপনার কোন অভিযোগ থাকলে রোববার শুনানির সময় বলবেন। আপনাদের উভয়পক্ষের সবকিছু শুনার জন্যই তো পুঠিয়া সহকারি কমিশনার ভূমি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এই কথা শুনে তিনি মারমুখি আচরণ করেন এবং ঘর থেকে বের করে দিয়ে সরকারি কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি দুঃখজনক’।
তিনি আরো জানান, পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)- এর নির্দেশনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুনের বাড়িতে মামলার নোটিশ আঠা দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে পবা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রি আয়েশা সিদ্দিকা জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুন কাজটি অন্যায় করেছেন। তিনি এভাবে সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে পারেন না। আমি ছুটিতে আছি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পবা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ আফরোজা খাতুন মোবাইলে কথা বলতে চাননি।
জানা গেছে, নগরীর চন্দ্রিমা থানার নামোভদ্রার এসএম আয়নাল হকের স্ত্রী ইকতার জাহান ইতি পুঠিয়ার পশ্চিমভাগ তার পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছেন। বাড়ি শুরু করার পর থেকেই স্থানীয় চাঁদাবাজরা ইকতার জাহান ইতির কাছে একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে।
গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইকতার জাহান ইতি তার নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ দেখতে গেলে তারা আবারো একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় দুষ্কৃতিকারিরা ইকতার জাহান ইতিকে মারপিট করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি গৃহবধূ জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ আদালতে পাঁচজনকে আসামী করে মামলা করেছিলেন। মামলাভুক্ত আসামীর মধ্যে মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে ও পবা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবীশ মোসা. আফরোজা খাতুনও ছিলেন।
