আলো ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করে বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, অন্তত মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে দু’একদিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক।
ম্যাডামের একটা কিছু হয়ে গেলে এর দায়ভার আজীবন আওয়ামী লীগকে বহন করতে হবে। কিন্তু আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার এ দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার এ বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নারী সংসদ সদস্যসহ অন্যরা হইচই শুরু করেন।
স্পিকার তাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, আস্তে আস্তে মাননীয় সংসদ সদস্যরা। বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এর আগে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি জানেন, আমি বগুড়ার সংসদ সদস্য। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া যিনি এ আসন থেকে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন।
তিন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি, যার জীবনে কখনোই নির্বাচনে হারেননি, যার জন্য দেশবাসীর দোয়া করছেন। আমি শুনতে পাই বগুড়াসহ সারা দেশের মানুষের কান্না। বিশেষ করে পোস্ট কোভিডের পর ম্যাডাম জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা তাকে দিনে দিনে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তাকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য নেত্রীর পরিবার থেকে পাঁচবার আবেদন করা হয়েছে। দল থেকে বারবার আবেদন করা হয়েছে। আমাদের আবেদন অতি দ্রুত জামিন দিয়ে দু’একদিনের মধ্যেই ম্যাডামকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হোক। আইন মন্ত্রী ৪০১ ধারা লম্বা বক্তব্য শুনেছি গতকাল (গত বুধবার)। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। সব দৈনিক পত্রিকার হেডলাইন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন রাগ অনুরাগের বশবর্তী হবেন না। ওঁর বক্তব্যের সঙ্গে শপথের ভাষার সাংর্ঘষিক। তিনি বলেন, তুমি অধম বলিয়া, আমি উত্তম হইব না- এটা কি সঠিক? না সঠিক না। দ-প্রাপ্ত হয়ে বিদেশ যাওয়া যায়। যার দু’টি রেফারেন্স আছে। একটি আ স ম আবদুর রব।
১৯৮৪ সালে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়াউর রহমান। মরহুম নাসিম সাহেব দুর্নীতি দমন মামলায় ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, দ-প্রাপ্ত হয়েও ২০০৮ সালে জামিন পেয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুযোগ পান।
আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের বিশেষ ফ্লাইটে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে পাঠানো হলো। বিদেশে চিকিৎসা না হলে তিনি হয়তো বাঁচতেন কিনা সন্দেহ। প্রেসিডেন্ট রেগুলার হেলথ চেকআপের জন্য বিদেশে যান। শুধু আমাদের সংসদ নেতা কেন? আমরা বা আমিও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাই।
সে ক্ষেত্রে সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে কেন বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না? এটা তার মৌলিক অধিকার দেশের মানুষ মনে করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই করতে পারবেন, তাই করেন। সর্বময় ক্ষমতার মালিক তিনি। এটা পাবলিক পারসেপশন। আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই অন্তত মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে দু’একদিনের মধ্যে জামিন দিয়ে বিদেশে পাঠানো হোক।
কিছু একটা হয়ে গেলে এর দায়ভার আজীবন আওয়ামী লীগকে বহন করতে হবে। এরপর তিনি বলেন, স্পিকার আমরা ৬ জন সংসদে আছি। আমার আওয়ামী লীগের বন্ধুরা বলেন এটাই পার্লামেন্টের জন্য অলংকার বা অর্নামেন্ট। আজকে তাই বলতে চাই আমাদের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী আমরা যদি সত্যি সত্যিই পার্লামেন্টের অলংকার হয়ে থাকি পার্লামেন্ট অলংকারবিহীন করবেন না।
এ কারণে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তে এমন হতে পারে ম্যাডামের যদি চরম অবস্থায় চলে যায়, তাহলে হয়তো এ পার্লামেন্ট আমাদের থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। আমি এটাকে শর্ত দিচ্ছি না। এরপর তার সময়ে শেষ হয়ে গেলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমি সংসদ সদস্যের বক্তব্য শুনেছি। যা দুদিন আগে বলেছি তার পুনরাবৃত্তি রিপিটেশন করতে চাই না।
আইনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। আইন যা বলেছে সেই মুহূর্তে মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যদিও সাজাপ্রাপ্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্য সিরাজের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তারা নির্বাচন করেছেন বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে। আমি বারবার একটা কথা বলছি বাংলাদেশের আইনের বইয়ে এটা নাই।
ওঁরা যদি আমাকে দেখাতে পারেন, তাহলে তো আমরা বিবেচনা করতে পারি। কিন্তু এটা আইনের বই দেখাতে পারবেন না, তাই বিবেচনা প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন, স্পিকার ওঁরা বলছেন উনাকে মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়া যায়। ওঁরা উদাহরণস্বরূপ কিছু দেখিয়েছেন।
ওঁরা বলেছেন, ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মামলা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে যেতে দেওয়া হয়েছে। কথাটা অসত্য। এটা সঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হননি এটা সত্য এবং সেজন্য তিনি যখন বিদেশ গিয়েছিলেন। বিদেশে যাওয়ার পরে তাকে দেশে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি যখন জোর করে দেশে এসেছেন তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। এটা হলো সত্য তথ্য। তৃতীয়ত, ওঁরা বলেছেন, যে আ স ম আবদুর রবকে কারাগার থেকে জার্মানিতে পাঠিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। কোন ধারায় পাঠিয়েছিলেন আমি জানি না। তখন মার্শাল ল ছিল। মার্শাল ল বিধির সঙ্গে চলে না। আজকে আইনের শাসন যেখানে আছে সেখানে আমি সেটা করতে পারি না।
এটি হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা। তিনি বলেন, আমি জানি সংসদ সদস্য খালেদা জিয়ার ব্যাপারে যেসব শারীরিক তথ্য দিচ্ছেন তাকে কিন্তু সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং সেই চিকিৎসায় কে সন্তুষ্ট অসন্তুষ্ট সেটা ওনাদের ব্যাপার। কিন্তু একজন সাজাপ্রাপ্ত, যার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ৪০১ ধারায়।
সেই ৪০১ ধারায় কোনো বিধান নাই একটি নিষ্পত্তিযোগ্য বা নিষ্পত্তিকৃত আবেদনকে আবার পুনর্বিবেচনা করার। তিনি বলেন, আইনের ভেতরেই সুযোগ নেই। ওঁরা আমাকে যত খুশি গালি দিতে পারেন। কিন্তু আমার কিছু আসে যায় না কিন্তু আমি আইন অনুযায়ী চলবো।
