সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীন বিশ্বের প্রথম ‘ড্রোন ক্যারিয়ার’ বিমান তৈরি করেছে যা কামিকাজে ড্রোনের পুরো একটি ঝাঁক পরিচালনা করতে সক্ষম। ‘জিউ তিয়ান’ বা ‘হাই স্কাই’ নামের এই বিশেষায়িত বিমানটি চীনের সামরিক শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এই মাসের শেষেই বিমানটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হতে পারে।
এই জেট-চালিত বিমানটি ১৫ হাজার মিটার (৫০ হাজার ফুট) উচ্চতায় উড়তে সক্ষম, যা বেশিরভাগ প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমার বাইরে। ২৫ মিটার ডানার বিস্তার ও ১৬ টন সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন বিশিষ্ট এই বিমান প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার (৪,৩৫০ মাইল) পর্যন্ত উড়তে পারবে। বিমানটির উভয় পাশে থাকা দুটি লঞ্চ বে থেকে একসাথে ১০০টি কামিকাজে ড্রোন বা ছোট আকৃতির যুদ্ধাস্ত্র ছোড়া সম্ভব হবে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) পরিকল্পনা করছে এই বিমানকে ‘ড্রোন মাদার শিপ’ হিসেবে ব্যবহার করার। এটি শুধু আক্রমণাত্মক ড্রোনের কার্যকরী পরিসরই বাড়াবে না, বরং তাদের ঝাঁকবদ্ধ কার্যক্রমের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে। গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি, পুনর্বিবেচনা কার্যক্রম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধে এই বিমান ব্যবহার করা যাবে।
সামরিক ব্যবহার ছাড়াও এই ড্রোন ক্যারিয়ার জরুরি সরবরাহ বিতরণ, সীমান্ত টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। গত নভেম্বরে চীনের ঝুহাই এয়ার শোতে প্রথমবারের মতো এই বিমানটি প্রদর্শিত হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না (এভিআইসি) বিমানটি ডিজাইন করেছে এবং জিয়ান চিদা এয়ারক্রাফ্ট পার্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এটি নির্মাণ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জিউ তিয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর এমকিউ-৯ রিপার এবং আরকিউ-৪ গ্লোবাল হকের মতো ড্রোন সিস্টেমের সমতুল্য, তবে এতে যুক্ত হয়েছে ঝাঁকবদ্ধভাবে ড্রোন পরিচালনার সক্ষমতা – এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এখনও মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চালু হয়নি। এই প্রযুক্তি চীনের সামরিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
