রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কাজের ধীর গতির কারণে বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত তদারকি ও গতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে কাজ শেষ হতে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনজীবনে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই এলাকায় ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।![]()
স্থবির জনজীবন, বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য
ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে সড়কের একটি বড় অংশ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে শুধু পথচারী বা নিত্যযাত্রীরাই নয়, সমস্যায় পড়ছেন অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবা প্রদানকারীরাও। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, ধীর গতির এই কাজের প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ধুলাদূষণ। নির্মাণসামগ্রীর কারণে সৃষ্ট ধুলায় আশেপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, অ্যালার্জি ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন বহু মানুষ। এছাড়া, দিনরাত ধরে চলতে থাকা নির্মাণ কাজের শব্দদূষণও জনজীবনের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।
ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধুলো এবং যানজটের কারণে ক্রেতারা এই পথে আসতে চাইছেন না। এর ফলে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দোকান মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কতদিন ধরে এই ভোগান্তি চলছে? কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।”
নির্ধারিত সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি কাজ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এতদিনে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে বারবার নির্মাণ কাজের গতি কমে যাচ্ছে। যদিও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সচেতন নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের গতি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, জনসাধারণের করের টাকায় তৈরি হওয়া এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের এমন ধীর গতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি
ভোগান্তির শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনতিবিলম্বে নির্মাণ কাজে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেবে, যাতে করে রাজশাহী শহরবাসী স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারে।
