আলো ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদÐের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারও শুরু করতে হবে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের আহŸায়ক নাহিদ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহŸায়ক আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম-সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন, মুশফিক উস সালেহীন, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসানসহ অন্য নেতারা। নাহিদ ইসলাম বলেন, রায় দ্রæত কার্যকর করতে হবে। অবিলম্বে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত যাচ্ছেন। আশা করি, তিনি শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন। আগামী এক মাসের মধ্যে তাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নয়, মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে অপরাধে জড়িত সকলকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। নাহিদ আরও বলেন, রায় শুধু এলেই হবে না-কার্যকর করতে হবে। যারা কারাগারে আছে, তাদের মামলার রায়ও দ্রæত দিতে হবে। এটা শুধু রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; জুলাই-আগস্টের ভুক্তভোগীদেরও দাবি। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া যেন নির্বাচনের পরও অব্যাহত থাকে এবং কোনোভাবেই যেন এর অগ্রগতি থেমে না যায়-সে জন্য লড়াই চলবে। আওয়ামী লীগের দায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, রায়ের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণহত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। দলের বিচার শুরু করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি আহŸায়ক বলেন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদকে হত্যার পর আমরা শপথ নিয়েছিলাম-বিচার আদায় করেই ছাড়ব। জুলাই বিপ্লবে হাজার শহীদ ও আহতদের ওপর যে জুলুম হয়েছে, তার বিচার আজ দ্রæতগতিতে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে আমরা সন্তুষ্ট হব সেদিনই, যেদিন রায় কার্যকর হবে। সেদিনই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। এদিকে শেখ হাসিনার রায়কে স্বাগত জানালেও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ৫ বছরের কারাদÐের রায়ে সন্তুষ্ট এনসিপি নয় জানিয়ে তিনি বলেন, সাবেক আইজিপি (চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন) একই অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। হাজারো হত্যাকাÐে ওনার দায় রয়েছে। তাকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। এটি পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগে যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনেকগুলো সমালোচনা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করা হয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদÐ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয় স্পষ্ট করছে, ফলে এ আইনে মৃত্যুদÐ হওয়া সঠিক হয়েছে বলে মনে করছি।
