TEHRAN, IRAN - JUNE 26: (EDITOR’S NOTE: This Handout image was provided by a third-party organization and may not adhere to Getty Images’ editorial policy.) In this photo released by the official website of the Supreme Leader's Office on Thursday, June 26, 2025, Iranian Supreme Leader Ayatollah Ali Khamenei appears among his supporters for the first time since the Iran-Israel war, in Tehran, Iran. (Photo by Office of the Supreme Leader of Iran via Getty Images)
আলো ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গতকাল রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করে এবং তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার ভোরে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন খামেনি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। তিনি খামেনিকে “ইতিহাসের অন্যতম অশুভ ব্যক্তি” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি ইরানের জনগণের জন্য দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ।”ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও আগেই দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের “নির্মূল” করা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে খামেনির মরদেহ শনাক্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহর প্রথমে জানিয়েছিল, খামেনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় ছিলেন। তবে গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে ৪০ দিনের শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় ২৪ প্রদেশে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের শাজরেহ তাইয়্যেবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১০৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের পূর্বাঞ্চলের একটি স্কুলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, প্রতিশোধমূলক তৃতীয় ও চতুর্থ দফার হামলা চলমান রয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন খামেনি। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সেবছরই তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো বারবারা স্লাভিন আল জাজিরাকে বলেন, “খামেনির মৃত্যুর ক্ষেত্রে ইরানের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভবত একটি পরিষদ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এমনকি হয়তো ইতোমধ্যেই তারা দায়িত্ব পালন করছে।” আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে বলেন, “সামরিক পদক্ষেপ এমন এক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।” তিনি অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “উসকানিবিহীন ও পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন” চালিয়েছে, যা তার ভাষায় “যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।” বিপরীতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।” রাশিয়া ও চীনও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া তাৎক্ষণিকভাবে হামলা বন্ধের দাবি জানান, আর চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খামেনির মৃত্যুতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষের উল্লাসের খবরও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন অধ্যায় কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্বরাজনীতির বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
